সব খাবারের মধ্যে খিচুড়ির আবেদন সব সময়ই বাঙালিদের কাছে অন্য রকম। আর বর্ষার দিনে খিচুড়ি খেতে কার না ভালো লাগে। শীতকালে, অতিথি আপ্যায়ন ও ঘরে ছুটির দিনে প্রিয়জনদের জন্য ভুনা খিচুড়ি রান্না করেন অনেকে। বেশির ভাগ সময় ভুনা খিচুড়ির সাথে গরুর মাংস বা মুরগির মাংস খেয়ে থাকি। তবে আজ বিডিলাইভ পাঠকদের জন্য থাকছে ভিন্ন স্বাদের চিংড়ির ভুনা খিচুড়ি।
উপকরণ :
চিংড়ি মাছ আধা কেজি, পোলাওয়ের চাল দুই কাপ, মসুর ডাল আধা কাপ, মুগ ডাল এক কাপ, তেল পরিমাণ মতো, ডিম একটি।
আদা বাটা ২ টেবিল চামচ,
হলুদ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ,
মরিচ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ,
লবণ ও পানি পরিমাণ মতো।
প্রণালি :
পছন্দ মতো সাইজের চিংড়ি মাছ কেটে ধুয়ে নিতে হবে। চিংড়িগুলো আদা বাটা, হলুদ, মরিচ গুঁড়া, লবণ ও ডিমের সাদা অংশ দিয়ে মাখিয়ে মেরিনেট করে নিন।
এবার চুলায় তেল দিয়ে গরম হলে তাতে মেরিনেট করা চিংড়িগুলো ভেজে নিন।
আরেকটি পাত্রে তেল দিয়ে ডাল চাল একসঙ্গে মিশিয়ে ভেজে তাতে পরিমাণ মতো
পানি দিন।
এরপর লবণ ও বেরেস্তা ছেড়ে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন। চাল ডাল আধা সিদ্ধ হয়ে এলে ভাজা চিংড়িগুলো ছেড়ে দমে ঢেকে রাখুন। দু-তিনটি মরিচ ফালি ছেড়ে দিন। চুলা বন্ধ করে আরো পাঁচ মিনিট ঢাকনা দিয়ে রাখুন।
ব্যস, হয়ে গেল মজাদার ও লোভনীয় চিংড়ি খিচুড়ি। ঢাকনা খুলে গরম গরম পরিবেশন করুন। বৃষ্টির দিনে এই খিচুড়ির কোনো জুড়ি নাই।
Pages - Menu
▼
বাড়িতে তৈরি মজাদার চিকেন পাস্তা
আমাদের দেশে পাস্তা খুব একটা প্রচলিত খাবার না হলেও বর্তমানে অনেকেই এ খাবারটি খুব পছন্দ করেন। এর স্বাদ ও গন্ধের কারণে অনেকের পছন্দের খাবারের তালিকায় শীর্ষে। আমরা সাধারণত বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে পাস্তা খেয়ে থাকি। কিন্তু এই খাবারের শখ মেটাতে গিয়ে আমাদের রেস্টুরেন্টে গিয়ে চড়া দামে পাস্তা কিনতে হয়।
যদি সেই একই স্বাদের পাস্তা যদি বাড়িতে তৈরি করা যায় তাহলে তো আর কথাই থাকে না। সময় এবং অর্থ দুইটাই বাঁচে। তাহলে দেরি না করে ঝটপট দেখে নেয়া যাক সুস্বাদু পাস্তা তৈরির রেসিপি।
উপকরণ :
পেনে পাস্তা- ৫০০ গ্রাম
চিকেন ছোট টুকরা- ২ কাপ
অলিভ অয়েল- ২ টে. চামচ
পেঁয়াজ- ১ টি (মিহি কুচি)
রসুন কোয়া কুচি- ৬ টি
পার্সলে গুঁড়া- ১ চা চামচ
টমেটো কুচি- ৫০০ গ্রাম
লবণ স্বাদমতো এবং গোলমরিচ গুড়া পরিমাণমতো।
প্রণালি :
# প্যানে অলিভ অয়েল দিয়ে এতে রসুন কুচি হালকা বাদামী করে ভেজে আলাদা করে তুলে রাখুন।
# ওই তেলেই পেঁয়াজ ভেজে তারপর টমেটো দিয়ে ১০ মিনিট রান্না করুন। টমেটো গলে গেলে লবন, গোলমরিচের গুড়া আর পার্সলে গুড়া দিয়ে আরো কয়েক মিনিট রান্না করুন। হয়ে গেল টমেটো সস।
# আলাদা প্যানে অল্প তেলে অল্প লবন আর গোল মরিচ গুড়া দিয়ে চিকেন টুকরোগুলো ভেজে নিন।
# পাস্তা সিদ্ধ করে নিন, তারপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে হাফ চা চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে পাস্তা গুলো মাখুন। এতে পাস্তা আঠার মত লেগে থাকবে না।
# টমেটো সসের মধ্যে পাস্তা আর চিকেন দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিটের বেশি আঁচে ভাজুন।
ব্যস, তৈরি হয়ে গেল চিকেন পাস্তা। এবার উপরে চীজ ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার ও লোভনীয় চিকেন পাস্তা।
বিকালের নাশতায় ভিন্ন স্বাদের আলু ফ্রাই
বিকালের নাশতায় ভিন্ন কিছু অথবা সহজ কিছু চাই চাই। নতুন নতুন মজাদার ও সুস্বাদু রেসিপি হলে কার না ভালো লাগে। এক্ষেত্রে করা যেতে পারে মুচমুচে আলু ফ্রাই। ঝটপট মজাদার এই খাবারের রেসিপিটা আজকে আরো সহজ করে দেয়া হলো। ১০ মিনিটেই তৈরি করে ফেলতে পারেন, অতিথি আপ্যায়নে কোনো ঝামেলা থাকবে না।
উপকরণ :
আলু ২টা, লবণ স্বাদমতো, বেসন – আধ কাপ, চালের গুঁড়ো – আধ কাপ, ধনে পাতা কুঁচি-২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ কুঁচি- এক চা চামচ, তেল – ভাজার জন্য পরিমান মতো।
প্রণালি :
আলুর খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট ফালি করে নিন। একটি পাত্রে বেসন এবং চালের গুঁড়ো নিয়ে তাতে কাঁচা মরিচ, ধনে পাতা ও লবণ মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করে নিন। ভাজার জন্য তেল গরম করুন। কেটে রাখা আলুর টুকরো নিয়ে মিশ্রণে ডুবিয়ে একটা একটা করে তেলে ছাড়ুন। এরপর মুচমুচে করে ভেজে তুলুন।
সস বা চাটনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন মুচমুচে আলু ফ্রাই।
উপকরণ :
আলু ২টা, লবণ স্বাদমতো, বেসন – আধ কাপ, চালের গুঁড়ো – আধ কাপ, ধনে পাতা কুঁচি-২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ কুঁচি- এক চা চামচ, তেল – ভাজার জন্য পরিমান মতো।
প্রণালি :
আলুর খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট ফালি করে নিন। একটি পাত্রে বেসন এবং চালের গুঁড়ো নিয়ে তাতে কাঁচা মরিচ, ধনে পাতা ও লবণ মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করে নিন। ভাজার জন্য তেল গরম করুন। কেটে রাখা আলুর টুকরো নিয়ে মিশ্রণে ডুবিয়ে একটা একটা করে তেলে ছাড়ুন। এরপর মুচমুচে করে ভেজে তুলুন।
সস বা চাটনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন মুচমুচে আলু ফ্রাই।
ঘরেই তৈরি করুন মজাদার হালিম
হালিম কম বেশি সবার পছন্দের একটি খাবারের নাম। কিন্তু বাইরের তৈরি খাবার সব সময় স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাই পছন্দের খাবারটি যদি ঘরেই তৈরি করা যায়, তা হয় বেশ স্বাস্থ্যসম্মত এবং বেশি স্বাদের। তবে হালিম রান্না করতে সবাই পারে না। তাদের জন্য আজ দেয়া হলো হালিম রান্নার রেসিপি।
উপকরণ :-
মুগ, মাসকলাই ডাল, মসুর ডাল আর পোলাও চাল মিলে আধা কেজি। এক কাপ পরিমাণ গম নিন। এসব কিছু গুঁড়ো করে নিন ব্লেন্ডারে বা পাটায়। সময় অনেক কম লাগবে।
বাকি যা লাগবে :-
# মুরগি একটা ১ থেকে দেড় কেজি ছোট পিস করে কাটা অথবা হাফ কেজি পরিমাণ হাড় বাদে গরুর মাংস।
# পেঁয়াজ ৪ টি কুচি করে বেরেস্তা করা, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ
# আদা বাটা ২ টেবিল চামচ
# রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ
# হলুদ মরিচ গুঁড়ো মিলে ২ চা চামচ
# গরম মশলা পাউডার ১ টেবিল চামচ
# জিরা গুঁড়ো ২ চা চামচ
# ধনিয়া গুঁড়ো ২ চা চামচ
# ধনিয়া পাতা কুচি
# আদা কুচি
# তেল হাফ কাপ এবং লবণ স্বাদমত
প্রণালি :-
- প্রথমে মুরগির সাথে সব মশলা মিশিয়ে মেরিনেট করে রাখুন আধাঘণ্টা।
- এবার বড় হাড়িতে তেল দিয়ে তাতে মাখানো মুরগির পিসগুলা দিয়ে নাড়াচাড়া করে অল্প পানি দিয়েরান্না করুন ২০ মিনিট। তেল উপরে উঠে আসলেই বুঝবেন এটা হয়ে গেছে।
- এবার এতে প্রথমে গুড়া করে রাখা সব রকম ডাল আর গম এর মিশ্রণটা দিয়ে নাড়াচাড়া করে ৫ কাপ গরম পানি দিয়ে দিন। ভালোভাবে পানি আর মশলার সাথে ডাল মিশিয়ে নিবেন।
- আঁচ মিডিয়াম করে রান্না করুন ১ ঘণ্টা। মাঝে মাঝে নেড়ে দিতে ভুলবেন না।
- ঘন হয়ে আসলে তেল উপরে উঠে আসবে।
- নামিয়ে হালিম এর উপরে ধনিয়া পাতা কুচি আর কুচি করা আদা, কাঁচা মরিচ, বেরেস্তা দিয়ে পরিবেশন করুন।
সাবু দানার বড়া
অনেকেই সাবু দানা চিনেন না। যদিও সাগু বা সাবুদানা আমাদের দেশে খুব পরিচিত একটা খাবার। এটি সাধারনত রোগী বা বাচ্চাদেরকে খাওয়ানো হয়। এটি শর্করার বেশ ভাল একটি উৎস। এটা সাধারণত জ্বর বা অসুস্থ হলে খেতে দেয়া হয়। প্রাচীনকালে এর ব্যবহার ছিল বেশি। বর্তমানে সাবু দানা দিয়ে সাধারণত ফালুদা, পায়েস, সুজি তৈরি করে খাওয়া হয়।
তবে সাবুদানা দিয়ে বড়াও তৈরি করা যায়। সাবুদানার বড়া সাধারণত বাইরে থেকে মুচমুচে এবং ভিতরে নরম হয়। ধনে পাতা অথবা আমচুর চাটনি এবং টমেটো সসের সঙ্গে গরম গরম সাবুদানার বড়া খেতে খুবই সুস্বাদু।
উপকরণ :-
সাবুদানা দুই কাপ, আলু সেদ্ধ, আদা কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, সাদা তিল দুই চামচ, কর্নফ্লাওয়ার এক চামচ, লবণ স্বাদ মতো, ভাজা বাদাম এবং ভাজার জন্য পরমিাণ মথো তেল।
প্রণালি :
ছাকনিতে সাবুদানা নিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন। এবার একটি বাটিতে পানি নিয়ে সাবুদানা ভিজিয়ে রাখতে হবে। ছয় থেকে আট ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর অতিরিক্ত পানি ফেলে দিতে হবে। একটি সাবুদানা হাতে নিয়ে টিপে দেখুন, সেটি পিষে যাচ্ছে কিনা। যদি পিষে যায়, তাহলে সাবুদানা ভালভাবে তৈরি বড়া বানানোর জন্য।
একটি পাত্রে সেদ্ধ করে রাখা আলু চটকে নিতে হবে। এই আলুর মধ্যে ভিজিয়ে রাখা সাবুদানা দিতে হবে। এবার আদা আর কাঁচা মরিচ কুচি দিতে হবে। এরপর সাদা তিল আর লবণ মেশাতে হবে। সব উপাদানগুলি ভাল করে মিশিয়ে একটা মণ্ডের মতো বানাতে হবে। এবার কর্ণফ্লাওয়ার আর ভাজা বাদাম দিতে হবে।
পরের ধাপে ছোট ছোট গোল করে নিয়ে হাতের তালুতে চেপে চ্যাপ্টা করে বড়ার আকার দিতে হবে। একটি পাত্রে তেল গরম করতে হবে। এবার তৈরি করে রাখা বড়াগুলি তেলে ছেড়ে দিতে হবে। হালকা আঁচে ভালে করে ভেজে নিতে হবে। বড়ার দুই পিঠই বাদামি করে ভেজে নামাতে হবে। এখন সস দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
উপকারীতা :-
# এটি সহজেই হজম হয় তাই শিশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
# মানব শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং পেশী সংকোচন এ সহায়তা করে।
# পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। সম্পৃক্ত চর্বি খুবই কম থাকায় হার্টের রোগীদের জন্য ভালো একটি খাবার সাবু দানা।
বেগুনের নতুন রেসিপি বেগুন কাবাব
সবজির মধ্যে বেগুন সব ঋতুতে পাওয়া যায়। সবজি হিসেবে বেগুন অনেকে বেশ পছন্দ করেন। বেগুন দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের পদ। যেমন- বেগুন ভর্তা, বেগুন পোড়া, বেগুনী, বেগুনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের মাছ দিয়ে রান্না করা যায় পদ।
তবে আজ বেগুনের ভিন্ন স্বাদের নতুন এক পদের রেসিপি দেয়া হল। সেটি হলো বেগুনের কাবাব। অনেকেই বিভিন্ন প্রকারের কাবাব খেয়েছে কিন্তু বেগুনের কাবাবের কথা হয়তো অনেকের অজানা। এই কাবাব খুব মজাদার।
উপকরণ- বেগুন তিন থেকে চারটি। গরুর কিমা আধা কেজি। দুধ এক পোয়া। পেঁয়াজকুচি এক কাপ। আদা বাটা, গরম মশলা বাটা এক চামচ। কাবাব মশলা এক টেবিল চামচ। গোল মরিচ ও শুকনা মরিচের গুঁড়ো এক চামচ। অলিভ অয়েল এক চামচ।
টমেটো দুই থেকে তিনটা ও টমেটো সস এক চামচ। পাউরুটি দুই পিস, লেবুর রস, গরম পানি ও পরিমাণমতো তেল।
প্রণালি:-
প্রথমে বেগুনকে ধুয়ে গোল গোল করে কেটে দুই চামচ লবণ পানিতে ভিজিয়ে নিন। এ্খন দুধে পাউরুটি ভিজিয়ে রাখুন নরম করার জন্য। এটি গরুর কিমায় মাখালে স্বাদ ভালো হবে। তারপর একটি পাত্রে গরুর কিমা, পেঁয়াজ কুচি, আদাবাটা, গরম মশলা বাটা, কাবাব মশলা, লাল শুকনো মরিচের গুঁড়া, গোলমরিচের গুঁড়া, লেবুর রস ও লবণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
এখন নরম পাউরুটি এর সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর সব মাখানো হয়ে গেলে কাবাবের মতো চ্যাপ্টা চ্যাপ্টা করে ৩০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। ৩০ মিনিট হয়ে গেলে এখন ওভেনের ট্রেতে দুটি বেগুনের মাঝে একটি করে কাবাব দিয়ে দিন।
এখন কাবাব সস তৈরি করে নিন। টমেটোর সস, গোলমরিচের গুঁড়ো, লবণ এবং এক কাপ গরম পানি মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে অলিভ অয়েল দিয়ে দিন। সস বেগুন এবং কাবাবের ওপর ঢেলে দিন। টমেটো টুকরো করে কেটে ট্রেতে রাখা কাবাবের পাশে দিয়ে দিন। এখন ওভেনে ২০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা দিয়ে ৪৫ মিনিট টাইম সেট করে বেকিং ট্রেতে রেখে ওভেন চালু করেন। ৪৫ হয়ে গেলে বেক বের করুন।
ব্যস হয়ে গেল মজাদার বেগুন কাবাব। এখন নিজেও খেতে পারেন এবং অতিথিদেরকেও পরিবেশন করতে পারেন।
মিষ্টি কুমড়ার ফুলের বড়া
শীতের দিনে গরম গরম ভাতের সাথে অথবা বিকেলের নাস্তা হিসেবে কুমড়া ফুলের বড়া মজার একটি খাবার। খুব সহজ এই রেসিপিটি এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রস্তুত করা যায়।
জেনে নিন রেসিপিটি-
উপকরণ:
মিষ্টি কুমড়ার ফুল- ১০টি, বেসন- ২ টেবিল চামচ, ময়দা বা চালের গুঁড়া- আধা কাপ, কর্নফ্লাওয়ার- ১ টেবিল চামচ, হলুদের গুঁড়া- আধা চা চামচ, মরিচের গুঁড়া- পরিমাণমতো, লবণ- স্বাদমতো, পানি- প্রয়োজনমতো, তেল ভাজার জন্য।
প্রস্তুত প্রণালী:
মিষ্টি কুমড়ার ফুল ও তেল বাদে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মেশাতে হবে। পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঘন গোলা তৈরি করে নিন। এবার ফুলের সবুজ ডাটার কাছ থেকে কেটে ফুলগুলো পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। চাইলে ফুলের পাপড়ি ভাঁজ করে ফুলের ভেতরে ঢুঁকিয়ে নিতে পারেন।
এবার ফুলগুলো একে একে গোলায় ডুবিয়ে ডুবো তেলে মাঝারি আঁচে ভাজতে হবে। হালকা বাদামী রং ধারণ করলে নামিয়ে এনে পছন্দের সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।
মাংসের কালো ভুনা রান্না করার রেসিপি
গরুর মাংস পুষ্টিকর একটি খাবার। এই খাদ্যের মধ্যে মজুদ পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসে। তবে পুষ্টি উপাদান বেশি হওয়ার ফলে অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তবে জেনে নেয়া যাক কীভাবে গরুর কালা ভুনা তৈরী করবেন।
উপকরণ:
১. এক কেজি মাংস
২. ১ কাপ তেল,
৩. পিঁয়াজ কুচি মোটা করে ১ কাপ,
৪. হলুদ ১ চা চামচ,
৫. মরিচের গুঁড়ো পরিমাণ মতো,
৬. আদা বাটা পরিমাণ মতো,
৭. রসুন বাটা পরিমাণ মতো,
৮. জিরা বাটা ১ টেবিল চামচ,
৯. ৩/৪টা এলাচ,
১০. দারুচিনি,
১১. লবঙ্গ,
১২. গোলমরিচ,
১৩. তেজপাতা ও
১৪. লবণ পরিমাণ মতো।
প্রণালী:
প্রথমেই মাংস মাঝারি আকার করে কেটে নিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর একটা চালুনিতে নিয়ে মাংস থেকে পানি ঝরান। এবার একটা পাত্রে সব মসলা ও মাংস মিশিয়ে ভালোমতো কষান।
ভালোভাবে কষানোর পর মাংসের ওপর তেল উঠে আসবে। এরপর আবার ২-৩ কাপ পানি ঢেলে দিন। এতে মাংস সেদ্ধ হতে সহজ হবে। সবার শেষে আরেকটি পাত্রে অল্প করে তেল ঢেলে নিয়ে অল্প আঁচে মাংস কালো করে ভেজে নিন।
সবশেষে কালো কালো হয়ে যাওয়ার পর চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
বাড়িতে বসেই যখন তখন লোভনীয় ফুচকা
ফুচকা খেতে ভালোবাসেন সবাই। বিশেষ করে নারীদের কাছে খুবই লোভনীয় খাবার ফুচকা। কিন্তু বাইরের তৈরি খাবার কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন অনেকে। কিন্তু ফুচকা যদি বাড়িতে তৈরি করা যায় তাহলে তো আর বাড়তি ভাবনা থাকেই না। যে ফুচকা হামেশাই আমরা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অনায়াসে ৪০-৫০ টাকারও খেয়ে ফেলতে পারি, তা যে বাড়িতেও মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৈরি করে ফেলা যেতে পারে, তা কি জানেন?
আর এখন তো ফুচকার মশলাটুকু বাড়িতে তৈরি করলেই হয়ে যায়, কারণ দোকানেই এখন শুকনো ফুচকা কিনতে পাওয়া যায়৷ তাই দেখে নিন বিকেলে বাড়িতে বসেই কিভাবে সবাই মিলে জমিয়ে ফুচকা খেতে পারবেন৷
উপকরণ:
দোকান থেকে কেনা শুকনো ফুচকা
ফুচকার পানি বা টক তৈরিতে যা লাগবে-
পানি– ৫ কাপ
তেঁতুলের কাথ – ২ টেবিল চামচ
পুদিনা পাতা কুচোনো – ১ কাপ
ধনেপাতা কুচোনো – ১ কাপ
কাঁচা লঙ্কা কুচোনো – ১ টেবিল চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো – ১
লবণ – আন্দাজমতো
বিট লবণ – ১ টেবিল চামচ
চাট মশলা – ১ টেবিল চামচ।
পুর তৈরিতে প্রয়োজন-
সিদ্ধ ছোলা – ১ কাপ
সিদ্ধ আলু মাখা – ১ কাপ
মুড়ি মশলা – ১ চা চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো – ১ চা চামচ
বিট লবণ– ১ চা চামচ
লবণ- আন্দাজমতো।
প্রণালি :
টক তৈরির সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন৷ এবার এর মধ্যে ৩-৪ কাপ পানি দিন৷
পুর তৈরির সব মশলা একসঙ্গে মাখুন। কিনে আনা শুকনো ফুচকার মাঝে হাল্কা আঙুলের চাপ দিয়ে গর্ত করে, তাতে পুর এবং তৈরি করা তেঁতুলের টক দিয়ে খেয়ে দেখুন এর মজা৷
খেজুরের 'রসের পায়েস'
শীত মানেই ঘুম থেকে উঠেই চাই মন নাচানো পিঠা-পায়েস। শীতের সকালে খেজুর গাছ থেকে নামানো খেজুরের রসের কথা ভাবতেই যেন গলা শুকিয়ে উঠে রস খাওয়ার তৃষ্ণায়। তবে খাটি খেজুরের রসের স্বাদটা গ্রহণ করা যায় গ্রামে। খেজুরের রসে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্ন। তেমনি খেজুরের রসের তৈরি মজাদার একটি খাবার 'রসের পায়েস'।
উপকরণ:
উপকরণ: পোলাওয়ের চাল ১ কাপ, খেজুর রস ১ লিটার, লবণ সামান্য, এলাচ ২টা, তেজপাতা ২টা, দারুচিনি ২-৩ টুকরা, কোরানো নারকেল ১ কাপ।
প্রস্তুত প্রণালী:
পোলাওয়ের চাল পরিষ্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। পাটায় সামান্য ভেঙে নিতে হবে। খেজুরের রস চুলায় দিয়ে একবার বলক এলে তাতে চাল ও বাকি উপকরণ ঢেলে দিতে হবে। চাল সেদ্ধ হলে পায়েস তৈরি হয়ে যাবে। নামিয়ে ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।
সতর্কতা:
* কাঠের হাতল দিয়ে নাড়ুন।
* চিনি মেশানোর প্রয়োজন নেই। কারণ খেজুরের রস অনেক মিষ্টি হয়
বাড়িতে তৈরি সুজির রসগোল্লা
মিষ্টি খেতে কম-বেশি সবারই ভালো লাগে। কিন্তু সে মিষ্টি যদি হয় বাড়িতে তৈরি তাহলে তো আর কথাই নাই। তবে যাদের কাছে ছানার রসগোল্লা বানাতে ঝামেলা লাগে অথবা একটু সময়সাপেক্ষ মনে হয়, তারা সুজির রসগোল্লাটা বানাতে পারেন। এটা বানানো খুবই সহজ এবং সময়ও কম লাগে। তাছাড়া এই রসগোল্লাও কিন্তু স্পাঞ্জি হয়।
কিন্তু ছানার রসগোল্লার মতো অতটা স্পাঞ্জি হয় না, তবে খেতে ভীষণ মজার। তা ছাড়া এই রসগোল্লার একটা নিজস্ব স্বাদ আছে। তাহলে জেনে নিন কীভাবে বানাবেন সুজির রসগোল্লা।
উপকরণ :
১. সুজি ১/২ কাপ
২. দুধ ১/২ লিটার
৩. ঘি এক টেবিল চামচ
৪. চিনি পরিমাণমতো
৫. এলাচ চারটি
প্রস্তুত প্রণালি :
প্রথমে চুলায় অল্প আঁচে একটি প্যানে দুধ দিন। এরপর দুধের বলক ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। দুধে বলক চলে এলে এর মধ্যে ঘি এবং দুই টেবিল চামচ চিনি দিয়ে দিন। এরপর এগুলো এক মিনিটের মতো নেড়ে নিন। এরপর এর মধ্য দিয়ে দিন সুজি। আর সুজিটা ঢালতে ঢালতে এটা নাড়তে থাকুন।
চুলার আঁচ কমিয়ে দিয়ে এটাকে নাড়তে থাকুন। এরপর যখন এটা একটা ডো-এর মতো হয়ে যাবে, তখন চুলা থেকে নামিয়ে একটা পাত্রে নিয়ে নিন। চুলায় একটি হাঁড়িতে দুই কাপ পানিতে এক কাপ চিনি দিয়ে জ্বাল দিন। এরপর এর মধ্যে এলাচগুলো দিয়ে দিন। চিনিটা গলে পানিটা ফুটতে শুরু হলে চুলার আঁচ একদম কমিয়ে দিন। হাতে একটু ঘি লাগিয়ে অল্প অল্প করে সুজির ডো নিয়ে মিষ্টির আকার করে নিন।
এরপর মিষ্টিগুলোকে চিনির সিরায় দিয়ে চুলার আঁচ মিডিয়াম করে দিন। একটা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ১০ মিনিট জ্বাল করুন। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন মজাদার সুজির রসগোল্লা।
বাড়িতেই তৈরি করুন বিয়ে বাড়ির মুরগির রোষ্ট
বিয়েবাড়িতে সব থেকে আকর্ষণীয় খাবারের মধ্যে মুরগির রোস্ট একটি। ছোট-বড় সবাই মুরগির রোস্ট পছন্দ করেন। অনেকের আফসোস থাকে যে তাদের তৈরি চিকেন রোস্ট অতটা সুস্বাদু হয় না। বাসাতে সহজেই রান্না করা যায় বিয়েবাড়ির স্বাদের মুরগির রোষ্ট। আসুন জেনে নেই রেসিপি।
উপকরণ :
১.মাঝারি সাইজের মুরগি ৩টা
২.ঘি ১০০ গ্রাম
৩.তেল এক লিটার
৪.জায়ফল বাটা এক চা-চামচ
৫.জৈত্রিক বাটা এক চা-চামচ
৬.আদা বাটা দুই চা-চামচ
৭.রসুন বাটা দেড় চা-চামচ
৮.পোস্তদানা বাটা আধা চা-চামচ
৯.কাঠবাদাম বাটা দুই টেবিল চামচ
১০.কিসমিস এক টেবিল চামচ
১১.আলু বোখারা ৭-৮টি
১২.এলাচি ৪টি,
১৩.দারুচিনি ৪টি
১৪.কাঁচামরিচ ৭-৮টি
১৫.টক দই
১৬.পেঁয়াজ বাটা এক কাপ
১৭.চিনি অল্প
১৮.লবণ ১৫০ গ্রাম।
প্রণালি : মুরগি রোস্টের মতো করে কেটে লবণ, টক দই, আদা ও রসুন দিয়ে মাখিয়ে রাখুন। কড়াইতে তেল দিয়ে তাতে মুরগির টুকরাগুলো বাদামি রঙ করে ভেজে তুলুন।
এবার কড়াইতে ঘি ও তেল দিয়ে সব রকম মসলা, পেঁয়াজ বাটা, টক দই, চিনি, এলাচি, দারুচিনি, লবণ, বাদাম, আলু বোখারা, কিসমিস দিয়ে কষিয়ে ভাজা মুরগিগুলো রান্না করুন। মসলাগুলো ভালো করে মুরগির টুকরার গায়ে লেগে গেলেই মজাদার রোস্ট তৈরি হয়ে যাবে।
ঐতিহ্যবাহী মেজবানি মাংস রান্নার কৌশল
মেজবানি মাংস সবার পছন্দের একটি খাবার। এই পদটি রান্নার রয়েছে বেশকিছু কৌশল। এই রান্নার আসল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে প্রচুর পরিমাণে মসলা দেয়া হয়। ঝালও থাকে অনেক। তাই মেজবানি মাংস রান্নার আগে বিশেষ মসলার মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। অবশ্যই এই রান্না করতে হবে সরিষার তেল দিয়ে। তবেই পাওয়া যাবে আসল মেজবানি মাংসের স্বাদ। জেনে নিন কীভাবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আইটেমটি রান্না করবেন।
উপকরণ
গরুর মাংস (হাড়, কলিজা ও চর্বিসহ)- দেড় কেজি
হলুদ গুঁড়া- আধা টেবিল চামচ
মরিচ গুঁড়া- ২ টেবিল চামচ
সরিষার তেল- আধা কাপ
পেঁয়াজ কুচি- আধা কাপ
লবণ- সামান্য
কাঁচামরিচ- কয়েকটি
#মেজবানি মসলা তৈরি উপকরণ
আস্ত ধনে- ১ টেবিল চামচ
জিরা- ১ টেবিল চামচ
মেথি- দেড় চা চামচ
রাঁধুনি- ১ টেবিল চামচ
সাদা সরিষা- দেড় চা চামচ
গোলমরিচ- ১ চা চামচ
শুকনা মরিচ- ৫/৬টি
সাদা এলাচ- ৬/৭টি
কালো এলাচ- ২টি
দারুচিনি- বড় ২ টুকরা
লবঙ্গ- ৬/৭টি
জয়ত্রি- ১টি (ছোট)
জয়ফল- অর্ধেকটা
তেজপাতা- ২টি (বড়)
#মাংস মাখানোর উপকরণ
টমেটো- ১টি (ছোট করে কুচি)
পেঁয়াজ বাটা- ৩ টেবিল চামচ
আদা বাটা- দেড় টেবিল চামচ
রসুন বাটা- ১ টেবিল চামচ
তেজপাতা- ১টি
কালো এলাচ- ১টি
লবণ- স্বাদ মতো
নারকেল বাটা- ১ টেবিল চামচ
চিনা বাদাম বাটা- দেড় টেবিল চামচ
প্রস্তুত প্রণালি
মেজবানি মসলা তৈরির উপকরণ থেকে একটি তেজপাতা ও একটি কালো এলাচ সরিয়ে রেখে বাকি সব টেলে গ্রিন্ডারে গুঁড়া করে নিন। চাইলে বেটেও নিতে পারেন। মাংস মাখানোর উপকরণ দিয়ে ভালো করে মেখে নিন মাংস।
চুলায় প্যান বসিয়ে গরম করে তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি ভেজে সোনালি হলে হলুদ আর মরিচের গুঁড়া দিয়ে দিন। সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। এবার মেখে রাখা মাংস দিয়ে দিন প্যানে। সামান্য লবণ এবং মেজবানি মাংসের মসলা অর্ধেক পরিমাণ দিয়ে দিন। ভালো করে নেড়ে সব উপকরণ মিশিয়ে নিন। প্যান ঢেকে দিন। আঁচ কমিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তেল উঠে গেলে ১ কাপ পানি দিয়ে নেড়ে নিন।
চুলার আঁচ সামান্য বাড়িয়ে প্যান ঢেকে নিন। এভাবে চুলায় রাখুন ৪০ মিনিট। মাঝে মাঝে নেড়ে দিতে হবে। ৪০ মিনিট পর বাকি মেজবানি মসলা দিয়ে নেড়ে আবারো ঢেকে দিন। আরও ২০ মিনিট রাখুন চুলায়। আস্ত কাঁচামরিচ দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন সুস্বাদু মেজবানি মাংস। পরিবেশন করুন গরম গরম।
৫ পদের হালুয়া
পবিত্র শবে বরাত এলেই বিভিন্ন রকমের খাবারের মাঝে মুখোরোচক হালুয়ার প্রাধান্য থাকে বেশি। নিজেদের খাওয়ার পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়ন, প্রতিবেশিদের দিতে হালুয়ার জুড়ি নেই।
তাই জেনে নিতে পারেন মজাদার কয়েক পদের হালুয়ার রেসিপি-
ছোলার ডালের হালুয়া:
উপকরণ: ছোলার ডাল হাফ কেজি, দুধ এক লিটার, চিনি পরিমাণমতো, ঘি এক কাপের চতুর্থাংশ, এলাচ পরিমাণমত, দারুচিনি পরিমাণমতো, কিসমিস পরিমাণমতো, পেস্তা বাদাম কুচি।
প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে শুকনো ছোলাকে অন্তত ঘণ্টাপাঁচেক ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভালোমতো ভিজে গেলে একে ধুয়ে নিয়ে দুধের সাথে মিশিয়ে ভালমত সেদ্ধ করার পর বেটে বা ব্রাইন্ড করে নিতে হবে।এরপর একে কড়াইতে নিয়ে এর সাথে ঘি এবং পরিমাণমত চিনি মিশিয়ে নাড়তে হবে। নাড়তে নাড়তে মিশ্রণ কিছুটা ঘন হয়ে এলে এলাচ, এবং দারুচিনির গুড়ো যোগ করুন। সম্পূর্ণ শুকানো হওয়া পর্যন্ত নাড়তে হবে। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলেই হালুয়া হয়ে যাবে, তবে চুলা থেকে নামাবার আগে কিসমিস এবং পেস্তা বাদামের কুচি যোগ করুন। এবার আপনার ইচ্ছেমত পদ্ধতিতে একে পরিবেশন করতে পারবেন।
গাজরের হালুয়া:
উপকরণ: গাজর ৫০০ গ্রাম, দুধ ১ লিটার, চিনি ৪ টেঃ চামচ, কনডেন্সড মিল্ক ১/২ টিন, ঘি ১/৩ কাপ, পেস্তা বাদাম ও লবঙ্গ – প্রয়োজনমত
প্রস্তুত প্রণালি: গাজর টুকরো করে ১ লিটার দুধে সিদ্ধ করুন। গাজর সিদ্ধ হওয়ার পর দুধ শুকিয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ব্লেন্ডারে বা শিল-পাটায় মিহি করে বেটে নিন। এবার একটি কড়াইতে মাঝারি আঁচে ঘি গরম হতে দিন। ঘি গরম হলে গাজর, কনডেন্সড মিল্ক, চিনি মিশিয়ে ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। হালুয়ার পানি ভাব শুকিয়ে উপরে ঘি ভেসে উঠলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।
পেঁপের হালুয়া:
উপকরণ: কাঁচা পেঁপে ৫০০ গ্রাম, ঘি আধা কাপ, মাওয়া গুঁড়া ৪ টে. চামচ, চিনি ২৫০ গ্রাম, এলাচ গুঁড়া ১ চা চামচ, কিসমিস ১ টে. চামচ, আমন্ড বাদাম কুচি এক টেবিল চামচ, সবুজ রং সামান্য।
প্রস্তুত প্রণালি: পেঁপে খোসা ফেলে কুচিয়ে (গ্রেট করে) নিতে হবে। কুচানো পেঁপে সামান্য ভাপ দিয়ে নিন। এবার চুলায় কড়াইতে ঘি দিন। কুচানো পেঁপে দিয়ে ভাজতে হবে। চিনি, মাওয়া, রং, এলাচ গুঁড়া দিয়ে ভাজতে থাকুন। হালুয়া ঘন হয়ে ঘি ওপরে উঠে এলে নামিয়ে নিন এবং কিসমিস ও বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন।
নারিকেলের হালুয়া:
উপকরণ: নারিকেল কোরানো ১ কাপ, চালের গুঁড়া আধা কাপ, ঘি আধা কাপ, দুধ ৩ টেবিল চামচ, কনডেন্সমিল্ক আধা টিন, এলাচ গুঁড়া ১ চা চামচ, কিসমিস পরিমাণমতো, চিনি আধা কাপ।
প্রস্তুত প্রণালি: কোরানো নারিকেল বেটে নিন। কড়াইতে ঘি দিয়ে নারিকেল বাটা, এলাচ গুঁড়া, চিনি, কনডেন্স মিল্ক দিয়ে ভালোভাবে কিছুক্ষণ নাড়ুন। এবার চালের গুঁড়া সামান্য পানি দিয়ে গুলিয়ে দিন। যখন আঠালো হয়ে আসবে নাড়তে কষ্ট হবে, তখন একটি প্লেটে ঘি মাখিয়ে ঢেলে দিন। ঠান্ডা হলে কেটে বা সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
বাদামের হালুয়া:
উপকরণ: কাজু বাদাম ২ কাপ, ছানা ২ কাপ, চিনি ২ কাপ, এলাচ গুঁড়া সিকি চা চামচ, ঘি আধা কাপ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, কিসমিস ১ টেবিল চামচ, কাজু ও পেস্তা বাদাম সাজানোর জন্য।
প্রস্তুত প্রণালি: কাজু বাদাম হালকা ভেজে তিন-চার ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পানি থেকে তুলে কাজু বাদাম ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এবার চুলায় পাত্রে ঘি দিয়ে কাজু বাদাম ও ছানা দিয়ে ভাজতে থাকুন এবং চিনি দিন। দ্রুত নাড়তে থাকুন। ময়দা, এলাচ গুঁড়া দিন। হালুয়া হয়ে এলে প্লেটে সাজিয়ে ওপরে কিসমিস, কাজু ও পেস্তা বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
৫ মিনিটে তৈরি করুন চকলেট কেক
এখন চটজলদি রান্নার যুগ। ঝটপট বানিয়ে ফেলতে হবে সুস্বাদু খাবার। তবেই না সংসার সামলে, অফিস সামলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় বার করা যাবে।
জেনে নিন ৫ মিনিটে চকলেট কেক তৈরির রেসিপি-
উপকরণ:
ময়দা ১০০ গ্রাম, গুঁড়ো চিনি ১০০ গ্রাম, মাখন ১২৫ গ্রাম, বেকিং পাউডার ১ চা-চামচ, কোকো পাউডার ৪ টেবিল চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা-চামচ, ডিম ৩টি, কুচোনো আখরোট ২ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালী:
প্রথমে ময়দা চেলে রাখুন। চিনি ও মাখন ভাল করে ফেটিয়ে নিন। এবার একটু করে ময়দা ও একটা করে ডিম দিয়ে আবার ফেটিয়ে নিন।
এরপর কোকো পাউডার, আখরোট ও ভ্যানিলা এসেন্স মেশান। কাট অ্যান্ড ফোল্ড মেথডে কেকের মিক্স তৈরি করুন। একটা চৌকো মাইক্রোওভেন-সেফ পাত্র বেছে নিন। পাত্রটি মাখন দিয়ে গ্রিজ করে নিন।
এবার নিচে একটু ময়দা ছিটিয়ে দিন। ১০০% পাওয়ার লেভেলে ১ মিনিট মাইক্রো করে পাত্রটি গরম করে নিন। এরবার ওই পাত্রে কেকের মিশ্রণটি সমানভাবে ঢেলে দিন। ১০০% পাওয়ার লেভেলে সাড়ে চার মিনিট মাইক্রো মোডে গিয়ে মাইক্রো করে নিন।
৫ মিনিট স্ট্যান্ডিং টাইম দিয়ে কেক পিস করে কেটে নিয়ে গরম গরম সার্ভ করুন। তৈরি হয়ে গেল আপনার চকলেট কেক।
আলুর পরোটা রেসিপি
আলু এমন এক সবজি, যা আমরা সব রকমের খাবারে দিতে পছন্দ করি।
আলু পছন্দ করে না, এমন মানুষ আসলে কমই আছে।
একটা কথা প্রচলিত আছে, বেশি বেশি আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান। আলু অনেক সস্তা খাবার এবং অবশ্যই অনেক সুস্বাদু খাবার। পুষ্টিগুণের দিক দিয়েও আলু অনেক এগিয়ে। আসুন জেনে নেই আলু দিয়ে পরোটা তৈরির উপায়।
আলুর পরোটা
উপকরণ: ৬ খানি পরোটার জন্য ময়দা, আলু ৪টি, ধনেপাতা এক আঁটি, লবণ পরিমাণমত, ১ চা-চামচ গুঁড়া মরিচ, একটু পাতিলেবুর রস।
প্রস্তুত প্রণালী: আলুর খোসা ছাড়িয়ে চটকে এর সঙ্গে গুঁড়া মরিচ, লবণ ও সরু করে কুচানো ধনেপাতা চটকে একটু পাতিলেবুর রস দিন। লবণ ও ময়দা দিয়ে পরোটার জন্য মাখুন এবং ৬টি লেচি তৈরি করুন। প্রত্যেকটি লেচির মাঝে আলুর পুর দিয়ে বেলে ঘি বা তেলে ভেজে নিন এবং গরম গরম পরিবেশন করুন।
ফিশ ফ্রাইড রাইস রেসিপি
আমাদের সকলের প্রিয় একটা রাইস ডিশ ফ্রাইড রাইস। বিভিন্ন রকমের ফ্রাইড রাইস রয়েছে, একেক পদের একেক রকম স্বাদ। যেমন- চিকেন ফ্রাইড রাইস, ভেজিটেবল ফ্রাইড রাইস, পনির ফ্রাইড রাইস আরো কত রকমের রাইস আছে। তবে বেশির ভাগ শিশুরা সাধারনত মাছ খেতে চাই না। সেসব শিশুদের জন্য চিকেন ফ্রাইড রাইসের মতোই মাছ দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ফিশ ফ্রাইড রাইস। জেনে নিন কীভাবে রান্না করবেন এই লোভনীয় রেসিপি।
উপকরণ :
বোনলেস মাছ ৫০০ গ্রাম (আগে থেকে সিদ্ধ করা),
ঝরঝরে ভাত (আগে থেকে রান্না করা) ৩ কাপ,
ক্যাপসিকাম কুচি ১ কাপ,
পেঁয়াজ ৩ টি,
সেলারি আধা কাপ,
ফিশ সস ১ টেবিল চামচ,
চিলি সস ২ টেবিল চামচ,
রসুন ৩/৪ কোয়া,
সয়া সস ৩ চা চামচ,
আদা কুচনো ১ টেবিল চামচ,
গাজর কুচি ২টি ছোট,
সাদা গোলমরিচ গুঁড়ো ১ চা চামচ,
কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিলচামচ,
তেল ভাজার জন্য এবং লবন স্বাদমতো।
প্রণালি :
মাছ ছোট ছোট টুকরো করে নিন। সয়াসস, ফিশসস, চিলিসস এবং মরিচ গুঁড়ো দিয়ে ম্যারিনেট করে ১৫ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন।
এবার এতে কর্নফ্লাওয়ার গুঁড়ো দিয়ে কোট করে মাছের টুকরোগুলি সাদা তেলে ভেজে নিন। মাছ ভাজা হয়ে গেলে তুলে রেখে দিন। এরপর ওই তেলেই রসুন ও আদা কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিন। এতে পেঁয়াজ ভাজুন, সেলারি, ক্যাপসিকাম, গাজর দিয়ে ৬/৭ মিনিট ভাল করে রান্না করুন।
সবজি সিদ্ধ হয়ে গেলে এতে ভাজা মাছ দিয়ে দিন এবং কয়েক মিনিটের জন্য ভাজুন। এবার সিদ্ধ ভাত দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। একটু সয়াসস দিয়ে গনগনে আঁচে হাল্কা হাতে মিশিয়ে নিন।
ব্যস, তৈরি হয়ে গেল ফিশ ফ্রাইড রাইস। এবার গরম গরম পরিবেশন করে সবাইকে চমকে দিন।
৩ স্বাদে কাঁচা আম ভর্তা
বাজারে চলে এসেছে কাঁচা আম। শরবত তো আছেই, এর সাথে কাসুন্দি ও শুকনা মরিচ দিয়ে জিভে জল আনা কাঁচা আম ভর্তা করার এখনই সময়। লঙ্কার ব্যবহারে আম ভর্তায় আনে ভিন্ন স্বাদ।
জেনে নিন টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের আম ভর্তা তেরির প্রণালী-
কাঁচা মরিচ:
একটি বাটিতে স্বাদ মতো কাঁচামরিচ কুচি নিন। ১ চা চামচ চিনি ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিন। সব উপকরণ ভালো করে মেখে ১ কাপ কাঁচা আম কুচি দিন। সাথে সামান্য গোলমরিচ নিয়ে চটকে মেখে নিন মজাদার আম ভর্তা।
শুকনা মরিচ ভাজা:
শুকনা মরিচ তেল ছাড়া ভেজে গুঁড়া করে নিন। স্বাদ মতো শুকনা মরিচ গুঁড়ার সঙ্গে ১ চা চামচ কাসুন্দি ও স্বাদমতো লবণ দিন। কাঁচা আম কুচি দিয়ে ভালো করে মেখে নিন।
শুকনা মরিচ পোড়া:
এই ভর্তা তৈরির জন্য আধা কাপ কাঁচা কলা কুচি আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। শুকনা মরিচ পুড়িয়ে গুঁড়া করে নিন। এবার একটি বাটিতে স্বাদ মতো শুকনা মরিচ গুঁড়ার সঙ্গে কাঁচা আম কুচি মেশান। ভিজিয়ে রাখা কলা নিংড়ে অতিরিক্ত পানি বের করে দিয়ে দিন বাটিতে। ১ চা চামচ তেঁতুল ও সরিষার তেল দিন। স্বাদমতো লবণ দিয়ে চটকে নিন। হয়ে গেল মজাদার আম ভর্তা।






















