ত্বকের ধরনভেদে মধুর অ্যান্টি-এজিং ফেসিয়াল মাস্ক
যে কিনা সামান্য একটি মজার ঘটনাতেও চারপাশ কাঁপিয়ে হাসতে ভালোবাসতেন সেই আপনিই আজকাল অসম্ভব রকমের হাসির বা আনন্দের কোন ঘটনাতেও প্রাণ খুলে হাসতে পারেন না! কারণ আপনি হাসলেই আপনার মুখের ফাইন লাইনগুলো আপনার হাসি ছাপিয়ে জ্বলজ্বল করে ওঠে, আপনার মুখের হঠাৎ করেই উড়ে এসে জুড়ে বসা রিংকেল আর অন্যান্য এজিং সাইনগুলো আপনার মুখের মাধুর্য অনেকটাই মলিন করে দিচ্ছে। যেখানে আপনি চাইলেই আপনার মুখের এই অনাকাঙ্ক্ষিত এজিং সাইনগুলোকে দূর করতে পারেন সেখানে কেন বলুন তো নিজের সবচেয়ে অমূল্য যে সম্পদ আপনার সুন্দর হাসিটাকে চেপে রাখবেন?
আমার আজকের লিখাটি আপনার ত্বকের এই এজিং সাইন কী করে দূর করবেন তা নিয়েই। আজ বলবো কী করে ঘরে বসেই মধু দিয়ে আপনি অ্যান্টি-এজিং ফেসিয়াল মাস্ক তৈরি করবেন। শুধু তাই নয় আমি ত্বকের ধরনভেদে যেমন, নরমাল স্কিন, অয়েলি স্কিন, ড্রাই স্কিন, নরমাল স্কিন ও সেনসিটিভ স্কিনের জন্য আলাদা আলাদা মধুর মাস্ক রেসিপি দেবো।
আপনার ত্বকের ধরনভেদে মধুর ফেসিয়াল মাস্কঃ
০১. অ্যাভোকোডা ও মধু ফেসমাস্ক নরমাল স্কিনের জন্য-
যা যা লাগবেঃ
-২ টেবিল চামচ অ্যাভোকোডা।
-২ টেবিল চামচ মধু।
-১ টা ডিমের কুসুম।
-২ টেবিল চামচ অ্যাভোকোডা।
-২ টেবিল চামচ মধু।
-১ টা ডিমের কুসুম।
রেসিপিঃ
সব উপাদান একসাথে নিয়ে একটি ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন অথবা হাতের সাহায্যে ভালোভাবে চটকান। আপনার পরিষ্কার করে ধোয়া মুখের ত্বকে এই এই পেস্ট মাস্ক আকারে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং পরে ধুয়ে ফেলুন।
এই মাস্ক কেবল আপনার ত্বকে অ্যান্টি-এজিং এর কাজই করবে না বরং আপনার ত্বক লাইটেনিংও করবে।
সব উপাদান একসাথে নিয়ে একটি ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন অথবা হাতের সাহায্যে ভালোভাবে চটকান। আপনার পরিষ্কার করে ধোয়া মুখের ত্বকে এই এই পেস্ট মাস্ক আকারে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং পরে ধুয়ে ফেলুন।
এই মাস্ক কেবল আপনার ত্বকে অ্যান্টি-এজিং এর কাজই করবে না বরং আপনার ত্বক লাইটেনিংও করবে।
০২. মধু ও ডিম ফেসমাস্ক ড্রাই স্কিনের জন্য-
যা যা লাগবেঃ
-১ টেবিল চামচ মধু।
-১ টি ডিমের কুসুম।
-১ টেবিল চামচ দই।
-১\২ চা চামচ অ্যালমন্ড অয়েল।
-১ টেবিল চামচ মধু।
-১ টি ডিমের কুসুম।
-১ টেবিল চামচ দই।
-১\২ চা চামচ অ্যালমন্ড অয়েল।
রেসিপিঃ
একটি বড় বাটিতে সব উপাদান দিয়ে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না এটি আঠালো আর গাঢ় আকার ধারণ করে। এবার এটা আপনার মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে পরে একটি মাইল্ড ফেসিয়াল সোপ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
একটি বড় বাটিতে সব উপাদান দিয়ে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না এটি আঠালো আর গাঢ় আকার ধারণ করে। এবার এটা আপনার মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে পরে একটি মাইল্ড ফেসিয়াল সোপ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
মধু আপনার ত্বক স্মুথ করবে, অ্যালমন্ড ত্বক মশ্চারাইজ করবে, দই ত্বক রিফাইন ও পোরস লক করবে আর ডিমের কুসুম ত্বক মশ্চারাইজ করার সাথে ত্বক লাইটেন করবে।
০৩. মধু ও গাজর ফেসমাস্ক অয়েলি স্কিনের জন্য-
যা যা লাগবেঃ
-১\২ টা গাজর।
-২\৩ টেবিল চামচ মধু।
-১\২ টা গাজর।
-২\৩ টেবিল চামচ মধু।
রেসিপিঃ
গাজর ভালোভাবে সিদ্ধ করে চটকে মিহি পেস্ট বানিয়ে নিন, এবার এতে মধু মিশিয়ে ১০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। এবার এই পেস্ট আপনার ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা ত্বকে লাগান এবং ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ১০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
গাজর ভালোভাবে সিদ্ধ করে চটকে মিহি পেস্ট বানিয়ে নিন, এবার এতে মধু মিশিয়ে ১০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। এবার এই পেস্ট আপনার ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা ত্বকে লাগান এবং ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ১০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
গাজরকে ভিটামিন এ, সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউজ বলা যাই যা ত্বকে অ্যান্টি-এজিং এর কাজ করবে। আর মধুর মিনারেলস, এনজাইম ও সুগার ত্বকের লাবণ্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।
০৪. মধু ও কলা ফেসমাস্ক সেনসিটিভ স্কিনের জন্য-
-১ টি পাকা কলা চটকানো।
-১ কাপ ওটমেল সিদ্ধ দুধ দিয়ে।
-১ টা ডিম।
-১\২ টেবিল চামচ মধু।
-১ টি পাকা কলা চটকানো।
-১ কাপ ওটমেল সিদ্ধ দুধ দিয়ে।
-১ টা ডিম।
-১\২ টেবিল চামচ মধু।
রেসিপিঃ
সব উপাদান একসাথে মিশিয়ে আপনার ত্বকে সমান অনুপাতে লাগান। ১৫ মিনিট এই মাস্ক রেখে দিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সব উপাদান একসাথে মিশিয়ে আপনার ত্বকে সমান অনুপাতে লাগান। ১৫ মিনিট এই মাস্ক রেখে দিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ওটমেল ভিটামিন ও মিনারেলস এ পরিপূর্ণ, এটি ত্বক জেন্টলি ক্লিন ও হিল করে। কলার ভিটামিন এ ও ডিমের lecithin ত্বকের প্রাকৃতিক প্রলেপের কাজ করে। তাছাড়া মধু ন্যাচারালি ত্বক তরুন রাখে।
০৫ মধু ও ল্যাভেন্ডার ফেসমাস্ক অল টাইপ স্কিনের জন্য-
যা যা লাগবেঃ
-১ টেবিল চামচ অরগানিক মধু।
-৩ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেন্সিয়াল অয়েল।
-১ টেবিল চামচ অরগানিক মধু।
-৩ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেন্সিয়াল অয়েল।
রেসিপিঃ
এই দুই উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, এবার আপনার ত্বক কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে একটু ধুয়ে নিয়ে এই ফেসিয়াল মাস্ক মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে দিন ও পরে আবার হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
অ্যান্টি-এজিং ফেসিয়াল মাস্ক হিসেবে এই মাস্কটি সব ধরনের ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী।
এই দুই উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, এবার আপনার ত্বক কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে একটু ধুয়ে নিয়ে এই ফেসিয়াল মাস্ক মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে দিন ও পরে আবার হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
অ্যান্টি-এজিং ফেসিয়াল মাস্ক হিসেবে এই মাস্কটি সব ধরনের ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী।
আপনার ত্বকের ধরণ অনুযায়ী উপরের দেওয়া মাস্কগুলো ব্যবহার করে দেখুন আশা করি খুব দ্রুত উপকার পাবেন।
লিখেছেনঃ রুমানা রহমান
No comments:
Post a Comment