• কমলা লেবুর খোসার ৭টি অসাধারণ ব্যবহার!

    কমলালেবু খাওয়ার পর সাধারণত আমরা এর খোসা ফেলে দেই। কারণ আপাত দৃষ্টিতে এর কোনো গুণাগুণ আমরা খুঁজে পাই না। কিন্তু অনেকেই জানি না যে এই কমলার খোসার রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুন ও ব্যবহার। অন্যান্য অনেক ফলের খোসার চেয়ে কমলার খোসার গুনাগুন অনেক বেশি।

  • ত্বকের দাগ দূর করার ঘরোয়া গোপন ৩ টি কৌশল

    ত্বকের রঙ যেমনই হোক না কেন ত্বক যদি পরিষ্কার থাকে তাহলেই আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠে। রঙ ফর্সাকারী কেমিক্যাল যুক্ত ক্রিম, ফেসওয়াশ, মাস্ক ব্যবহার করে যদি শুধু ত্বকের রঙ ফর্সা করতে গিয়ে ত্বকে ব্রণের দাগ বা ছোপ ছোপ দাগ করে ফেলেন তাহলে কি তা দেখতে ভালো দেখাবে? মোটেই নয়।

  • আপনার চেহারায় ফুটে থাকুক চিরতারুণ্য

    বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনার ত্বকে, আপনার মুখে তার ছাপ রেখে যাচ্ছে। আপনার কি এই বুড়োটে হয়ে যাওয়া দেখতে ভাল লাগছে? লাগছে না। বয়সের ছাপ থাকুক কিন্তু সেটা যেন বয়সের চাইতে বেশী না দেখায় । তাই আপনার চির সবুজ মনের সাথে সাথে চেহারায়ও যদি চিরতারুণ্য ধরে রাখা যায় তবে তার চাইতে ভাল আর কি হতে পারে। তারুণ্যদীপ্ত চেহারার জন্য যা কিছু করা দরকার-

পায়ে অস্বস্তিকর কালো ছোপ ছোপ দাগ! জেনে নিন এই ৮টি উপায়


সূর্যের  ক্ষতিকর আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে আমাদের মুখের ত্বক, ঘাড় , হাত ঢেকে  রাখার অনেক চেষ্টা আমরা করলেও আমাদের পা দুটিকে সূর্য রশ্মি থেকে বাঁচানোর তেমন কোন প্রচেষ্টা  আমরা করিনা। আর এ কারনেই  গরমকালে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের পা সবচেয়ে বেশি । অতি মাত্রায় সূর্য রশ্মির কারনে পূড়ে যায় আমাদের পায়ের ত্বক। হয়ে ওঠে  রুক্ষ। দেখা যায় ছোপ  ছোপ কালো দাগও ।


এছাড়া, আমদের পা উন্মুক্ত থাকার ফলে প্রচুর ধুলা লাগে। নিয়মিত সঠিকভাবে পা পরিষ্কার না করার ফলে পায়ের ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ শুষ্ক।আমাদের মনে রাখতে হবে অন্যান্য জায়গার ত্বকের মতো পায়ের ত্বকেরও  যত্ন জরুরী। কারণ এটি সবচেয়ে বেশী  ধুলা ময়লার কাছাকাছি থাকে। আর অল্প একটু অযত্নের ছাপ পায়ের ত্বকে সহজেই দেখা যায়। আর আয়োজন করে পায়ের যত্ন নেয়াও হয়না।কিন্তু আপনার পায়ের পরিচ্ছন্নতা কিন্তু আপনার  রূপচর্চার ধরণের অনেকখানি প্রকাশ করে। আমরা অনেক কিছুর জন্য পার্লারে গেলেও পেডিকিউর করতে কম যাওয়া হয়। তাই আসুন পায়ের ত্বককে নরম কোমল আর রোদে পোড়া ছোপ ছোপ কালো দাগ দূর করতে সহজ কিছু উপায় জেনে নিই-


অল্প গরম পানিতে কিছুক্ষন পা ভিজিয়ে রাখুন। এবার লেবু আর চিনি মিশিয়ে একটি স্কার্ব বানিয়ে পাঁচ মিনিট পায়ের ত্বকে আস্তে আস্তে ঘষেস্কার্বিং করুন। পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
খাঁটি গরুর দুধ আপনার ত্বককে নরম কোমল করে আর দাগ দূর করতেও ভুমিকা রাখে । দুধ পায়ের পাতায় নিয়মিত ম্যাসাজ করুন আর তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সহজ একটি প্যাক হল টমেটোর রস, বেসন, শসার রস এবং লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে পায়ের কালো ছোপ ছোপ দাগে বা সম্পূর্ণ পায়ে লাগান। শুকানোর পর পানি দিয়ে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার করুন। নিজেই আপনার পায়ের ত্বকের পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
নারকেল তেল আর লবণ নিয়ে মিশিয়ে পায়ের ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগান। আপনি চাইলে এর মধ্যে লেবুর রসও নিতে পারেন । পরে কুসুম গরম পানিতে আপনার পা দুটি কিছুক্ষন ভিজিয়ে রেখে আস্তে আস্তে পায়ের ত্বক হতে প্যাকটি উঠিয়ে ফেলুন পা পানির মধ্যে থাকা অবস্থায়। পরিষ্কার পানি দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন। এটি পর পর কিছুদিন একই ভাবে পায়ের জত্ন নিলে খুব সহজেই পায়ের ত্বকের নিস্প্রান রুক্ষ ভাব দূর হয়ে ত্বকে ফিরে আসে টান টান সজিবতা। নারকেল তেল ময়েশ্চারাইজিং হিসেবে পায়ে খুব ভাল কাজ করে। লবন ত্বকের শুষ্ক মৃত কোষগুলোকে দূর করে ফেলে স্কার্বিং এর মাধ্যমে।
এক চা চামচ লেবুর রস ও মধু একত্রে মিশিয়ে ছোপ ছোপ কালো দাগের উপর  প্রতিদিন ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। রাতের বেলা করলে ভাল ফল পাবেন। নিয়মিত করলে কিছুদিনের  ভিতরে পায়ের কালো দাগ দূর হয়ে  পায়ের ত্বক নরম কোমল হয়ে উঠবে।
একইভাবে অলিভ অয়েল এবং চিনির মিশ্রণও আপনি ব্যবহার করতে পারেন। বেশী না সপ্তাহে একবার করলেই হবে। তবে উপরের যেটাই আপনি করেন না কেন পা পরিষ্কার করার পর প্রয়োজন মতন ময়েশ্চারাইজিং করুন আপনার প্রিয় লোশন বা গ্লিসারিন ব্যবহার করে। ।
আপনার পায়ের ত্বকের যত্ন নিতে, ত্বককে সুন্দর আর কোমল রাখতে উপড়ের সহজ উপায়ের যেকোনো একটি চেষ্টা করে দেখুন নিয়মিত। অবশ্যই ভালো ফল পাবেন।

চুলের যত্নে করলা


পুষ্টিকর হওয়ার কারণে ভাতের সাথে ভাজা করলা অনেকেরই খুব পছন্দের খাবার। কিন্তু হয়তো অনেকেরই জানা যেই যে চুলের যত্নেও করলার জুড়ি নেই। খুশকি দূর করা, চুল পড়া কমানো, চুলকে আরো ঘন কালো করে তোলা এবং চুলের আগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে করলার তুলনা নেই। জেনে নিন চুলের যত্নে করলার ব্যবহারের কিছু পদ্ধতি।

চুলকে ঘন কালো করতে
অনেকেরই চুল পুষ্টির অভাবে কিংবা অযত্নে একটু লালচে হয়ে যায়। চুলকে ঘন কালো করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন করলা।

যা লাগবে-

৬ টেবিল চামচ খাটি নারিকেল তেল

১ টি ছোট করলা


পদ্ধতি

-      প্রথমে চুলার আঁচ ছোট করে নারিকেল তেল হালকা গরম করে নিন।

-      এবার করলা ছোট ছোট টুকরা করে নারিকেল তেলে দিয়ে দিন।

-      অল্প আচেই করলাটাকে ভেজে গাঢ় বাদামী রঙ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ভাজুন।

-      চুলা থেকে নামিয়ে ভাজা করলাগুলোকে চিপে নারিকেল তেল বের করে নিন।

-      তেলটা হালকা গরম থাকা অবস্থায় মাথার তালুতে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন।

-      ৪৫ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

-      সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন।

চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করতে
অনেকেই করলার তিতা ভাবটা কমানো জন্য করলা চিপে রস ফেলে দেন। চুলের আগা ফেটে যাওয়ার রোধ করার জন্য এই করলার রসটি খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। করলার রস পুরো মাথায় মেখে ৪৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।  আগা ফাটা রোধ এবং মসৃণ চুলের জন্য সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন।

চুল পড়া এবং স্ক্যাল্প পিম্পল কমাতে
চুল পড়ে টাক হয়ে যাওয়া এবং স্ক্যাল্প পিম্পলের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা চুল করলার রস ব্যবহার করতে পারেন। চুল পড়া এবং স্ক্যাল্প পিম্পল কমাতে করলা ব্যবহারের পদ্ধতি এবং উপকরণ জেনে নিন।

১/২ কাপ করলার রস

১/২ কাপ টক দই

২ টেবিল চামচ লেবুর রস

পদ্ধতি

-      করলার রস, টক দই এবং লেবুর রস মিশিয়ে নিন।

-      মাথার তালু থেকে চুলের আগা পর্যন্ত পুরো চুলে লাগিয়ে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন।

-      ৪৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

-      সপ্তাহে দুইবার এই প্যাক ব্যবহার করুন।

কনসিলার শুধুই কী চোখের ডার্ক সার্কেল ঢাকার জন্য?


কনসিলার কী শুধুই মুখের দাগ, চোখের ডার্ক সার্কেল ঢাকার জন্য? একদমই না। কনসিলারের আরো কিছু ব্যবহার রয়েছে, যা আমরা অনেকেই হয়ত জানিনা। এই ব্যবহারগুলো জানা থাকলে মেকাপ অনেক সহজ করার সাথে সাথে  করে তুলবে আরও  নিখুঁত ও সুন্দর।  চলুন জেনে নেয়া যাক, কনসিলারের কিছু অসাধারন এবং অজানা ব্যবহার সম্পর্কে।

(১) আই প্রাইমার নেই? কোনো চিন্তা নেই। চোখের পাতায় কনসিলার লাগিয়ে নিন এবং ব্রাশ/ আঙ্গুলের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন পুরো চোখের পাতা জুড়ে। এটি আপনার চোখের পাতায় আই প্রাইমারের কাজ করবে এবং আই মেকাপে বেস হিসেবে কাজ করবে।

(২) আই লাইনার/ আইশ্যাডো দেয়ার সময় বাইরের দিকে ছড়িয়ে গেছে??  একটু কনসিলার নিয়ে ছোট একটি ব্রাশের সাহায্যে যেখানে লাইনার/ শ্যাডো ছড়িয়ে গেছে সেখানে লাগিয়ে নিন এবং ব্লেন্ড করে নিন। ব্যাস, লাইনার/শ্যাডো বাইরের দিকে অনেক শার্প লাগবে এবং ক্যাট আই লুক পাবেন।


(৩) ফাউন্ডেশন দেয়ার পরও চোখের নিচ ক্লান্ত লাগছে / আই মেকাপ ভালোভাবে ফুটে উঠছে না?  নিজের স্কিনের শেডের থেকে ২-৩ শেড লাইট কনসিলার চোখের নিচে  V শেপ এ লাগিয়ে নিন। পুরো ফেস-এ সামঞ্জস্য আনার জন্য কপালে নাকের উপরে থুতনিতেও লাগিয়ে নিতে পারেন। এটিকে ক্রিম হাইলাইটিং বলে। কনসিলারটি ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে ভুলবেন না।

(৪) ফাউন্ডেশন ব্যবহারের পরেও ফেস এর কালো দাগ, রেডনেস বোঝা যাচ্ছে? বেছে নিন কালার কারেক্টিং কনসিলার। কালার কারেক্টর সম্পর্কে জানুন কনসিলার ও কালার কারেক্টারের মধ্যে পার্থক্য এই লিংকে ক্লিক করে।

ফাউন্ডেশন লাগানোর আগে অরেঞ্জ কালার কনসিলার ব্যবহার করুন কালো দাগের উপর। চাইলে পিচ কালার ও ব্যবহার করতে পারেন, যদি আপনার স্কিন শেড লাইট হয়। গ্রিন কালার কনসিলার ব্যবহার করুন রেডনেস এর উপরে।  এগুলো চাইলে নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন। অরেঞ্জ/ পিচ কালার কনসিলারের জন্য আপনার কনসিলারের সাথে পিচ/ অরেঞ্জ কালার লিপস্টিক মিক্স করে বানিয়ে নিন।
- গ্রিন কনসিলারের জন্য গ্রিন কালারের আইশ্যাডো নিয়ে কনসিলারের সাথে মিক্স করে বানিয়ে নিন।
- কিছু কালার কারেক্টিং কনসিলারের নাম - এল.এ. গার্ল কালার কারেক্টিং কনসিলার, এন.ওয়াই.এক্স কারেক্টর।

 (৫) লিপস্টিক ব্যবহারের পর লিপ এর চারদিকে কনসিলার লাগিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।এতে লিপ অনেক শার্প মনে হবে, লিপস্টিক ছড়িয়ে যাবে না এবং লিপ্স ফুলার মনে হবে।

(৬)  প্রতিদিন মেকাপ এ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে চান না অথচ, মুখের দাগ, ডার্ক সার্কেল, রেডনেস নিয়ে বাইরে যেতে ও মন চাইছে না? এমন একটি কনসিলার নিন যেটা ফুল কভারেজ দেবে এবং সেটি আপনার স্কিনের শেডের সাথে ম্যাচ করে। কনসিলারটি লাগিয়ে নিন আপনার ফেস এর দাগ, ডার্ক সার্কেল এর উপরে এবং ব্লেন্ড করে নিন।পুরো ফেস এ পাউডার লাগিয়ে নিন। ব্যস আপনি রেডি বাইরে যাওয়ার জন্যে।

(৭) আইব্রো আঁকতে গিয়ে বেশী মোটা হয়ে গেছে / ছড়িয়ে গেছে? চিন্তা নেই! ছোট ব্রাশে কনসিলার নিয়ে যেখানে আইব্রো মোটা হয়ে গেছে / ছড়িয়ে গেছে সেখানে লাগিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।চাইলে আইব্রো এর চারদিকে লাগিয়ে নিতে পারেন, এতে আইব্রো হাইলাইট হবে এবং আইব্রো অনেক শার্প মনে হবে।
(৮) কনসিলার দিয়ে কন্টুরিং ও করে নিতে পারেন। এজন্য ফেস এর থেকে ৪-৫ শেড ডার্ক একটি কনসিলার বেছে নিন। এই কনসিলারটি কন্টুরিং এরিয়াতে ( চোয়ালের নিচে, হেয়ার লাইনে, নাকের দুই পাশে) লাগিয়ে নিন এবং ব্লেন্ড করে নিন। এর পরে কন্টুরিং পাউডার দিয়ে সেট করে নিবেন।

(৯) একটি কটনবাডে লিকুইড কনসিলার নিন। এটি আপনার চোখের পাপড়িতে লাগিয়ে নিন। শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর মাশকারা লাগিয়ে নিন। এতে করে আপনার চোখের পাপড়িগুলো অনেক ঘন মনে হবে।

(১০) লিপস্টিক এর রঙ ঠোঁটে  ঠিকমত ফুটে উঠছে না? পুরো ঠোঁটে  অল্প একটু কনসিলার লাগিয়ে নিন।একটু পরে লিপস্টিক লাগান।দেখবেন, লিপস্টিক এর আসল রঙটি ফুটে উঠেছে।

কিছু ভালো কনসিলারের নাম – ম্যাক প্রো লং ওয়্যার কনসিলার, এল.এ. গার্ল প্রো কনসিলার, রিমেল ওয়েক মি আপ কনসিলার, আর্বান ডিকে নেকেট স্কিন কনসিলার, মেইবিলিন ফিট মি কনসিলার, মেইবিলিন এইজ রিওয়াইন্ড কনসিলার ইত্যাদি।

কনসিলার ব্যবহারের পর তা পাউডার দিয়ে সেট করে নিতে ভুলবেন না।  জেনে নিলেন, কনসিলারের অসাধারণ কিছু ব্যবহারের কথা। আশা করছি এটি অনেক হেল্পফুল হবে আপনাদের মেকাপের ক্ষেত্রে।অনেক খুঁটিনাটি বিষয় সহজ হয়ে যাবে।

রুক্ষ চুল থেকে মুক্তি চাই?


সিল্কি অ্যান্ড সাইনি হেয়ার সবার কাম্য। কাঙ্ক্ষিত স্মুদ চুল পেতে কতো প্রোডাক্টই না আমরা ব্যবহার করি! কিন্তু হাতের কাছে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানএর চেয়ে ভালো  চুলের জন্য আর কিছুই হতে পারে না। এই ব্যাপারটি মাথায় রেখে আমাদের সবার প্রিয় বিউটি ব্লগার লিন্ডা এমন একটি হেয়ার প্যাক  তার ভিডিও টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, যা চুলকে সফট, সিল্কি  এবং সাইনি করে তুলবে।

নারকেলের নাড়ু!


নারকেলের নাড়ু খেতে কার না ভালো লাগে। আর এই সময় পূজার মিষ্টান্ন আইটেমে এর উপস্থিতি থাকা চাই-ই-চাই! খুব সহজ এবং নারকেল কুড়ানো থাকলে ঝটপট তৈরি করা যায়। এটা এতোই সুস্বাদু যে টপাটপ দু-তিনটা গ্রাস করে ফেলা যায়।তবে আর দেরি কেন? নারকেলের নাড়ুর প্রতি দুর্বলতা থাকলে ঝটপট তৈরি করে ফেলুন।


উপকরণ 

 ২ টি নারকেল মিহি করে কুড়ানো
 ঘন দুধ ১ কাপ
 ১ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো
 চিনি আধা কেজি
 পেস্তা বাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ ( আপনার ইচ্ছা )
 দারুচিনির টুকরো কয়েকটি
প্রণালী

( ১ ) প্রথমে নারকেল ভালোভাবে মিহি করে কুড়ে নিতে হবে।

( ২ ) এবার একটি পাত্রে অল্প ঘি দিয়ে গরম করে নিয়ে কুড়ানো নারকেল, চিনি ও দুধ ভালো করে মিশিয়ে চুলায় দিন। কড়াই নন-স্টিকি হলে ভালো হয় তাহলে তলায় লেগে যাবে না।

( ৩ ) এখন দারুচিনি ও এলাচ গুঁড়ো দিয়ে দিতে হবে । নারিকেলের সাথে পেস্তা বাদাম মিহি কুঁচি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে ।

( ৪ ) এরপর মাঝারি আঁচে ভাজতে থাকুন। সারাক্ষণ নাড়ুন যাতে তলায় লেগে না যায়। ভাজতে ভাজতে নরম ও আঠালো হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে ।

( ৫ ) নারিকেলের মিশ্রন থেকে দারুচিনির টুকরাগুলো বেছে ফেলে দিন । সহনীয় গরম থাকতে থাকতে হাতের তালুতে অল্প ঘি মেখে নারিকেল নিয়ে ছোট ছোট গোল বল বানিয়ে ফেলুন । নারিকেলের নাড়ু বানানো হয়ে গেলে সেট হওয়ার জন্য ফ্রিজ এ রেখে দিন ।

পরিবেশন

এই উপকরণে ৬-৭ জনকে পরিবেশন করা যাবে । সপ্তাহ দুয়েক ফ্রিজ এ রেখে খাওয়া যায় ।

ঘরেই তৈরি করুন মজার সিঙ্গারা


সিঙ্গারাপ্রেমীরা প্রস্তুত তো! মজার সিঙ্গারা খেতে আর হোটেলে ঢুঁ মারতে হবে না।  খুঁটিনাটি কিছু বিষয় খেয়াল করে সিঙ্গারা বানালে দোকানের চাইতে আপনার বানানো সিঙ্গারা অনেক গুণে ভালো হতে বাধ্য। নিজের হাতে খাবার বানান। পরিবারের সবাইকে খাইয়ে আনন্দে থাকুন।

উপকরণ

ময়দা – ২ কাপ
লবন – ১/৪ চা চামচ
তেল / ঘি – ৪ চা চামচ
কালিজিরা – ১/২ চা চামচ
পানি – পরিমান মত
পুরের জন্য -

আলু – ৪ টা
পেঁয়াজ কুঁচি - ২ চা চামচ
জিরা – ১/২ চা চামচ
তেল – ২ চা চামচ
কাচামরিচ কুচি – ২ চা চামচ
রাঁধুনি মাংসের মশলা – ২ চা চামচ
বাদাম – ৪ চা চামচ
ধনেপাতা কুঁচি - ২ চা চামচ
ডাবলি বা মটর সেদ্ধ – ১/২ কাপ
লবন – স্বাদ মত
ভাজার জন্য তেল – পরিমান মতো


প্রণালী  

- ময়দাতে ঘি / তেল ময়ান দিন। বাকি সব দিয়ে একটা শক্ত ডো বানান।

-পাতলা ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দিন ১/২ ঘন্টা।

- পুরের জন্য আলু কিউব কাট করে সামান্য হলুদ দিয়ে সিদ্ধ করে নিন।

- প্যানে তেল গরম করে জিরা / পাঁচফোড়ন দিন।

- পেঁয়াজ কুঁচি ও বাকি মশলা ভুনে আলু সেদ্ধ দিন। মাখা মাখা হলে বাদাম, ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে নিন। চাইলে নিজের পছন্দমত সবজি / কলিজা দিয়েও আলুর পুর বানিয়ে নিতে পারেন।

- এবার শক্ত ডোটা আবারো একটু মথে নিন।

- একটু লম্বাটে রুটি বেলে মাঝখান থেকে কেটে নিন।

- ছবিতে দেখানো ভাজ অনুযায়ী আলুর পুর ভরে সিঙ্গারা বানিয়ে নিন।

- ডুবো তেলে অল্প আঁচে সময় নিয়ে ভাজুন।

টিপস 
- ডো অবশ্যই বেশ শক্ত হতে হবে এবং খুব পাতলা রুটি বেলা যাবে না। নয়তো সিঙ্গারার শেপ নস্ট হয়ে যাবে।
- পুর ঠান্ডা করে নিবেন।
- ভাজ দেবার সময় জোড়ার জায়গাগুলোতে পানি লাগিয়ে জোড়া দিবেন নয়তো তেলে ভাজার সময় জোড়া খুলে যাবে।
- সিঙ্গারা অল্প আঁচে সময় নিয়ে ভাজতে হয়।
- আঁচ বেশি দিলে সিঙ্গারার গায়ে ফোস্কা বা ছোট ছোট বাবল দেখা যায়।

অল্প মেকাপেও হয়ে উঠুন আকর্ষণীয়


মেকাপ করতে কমবেশী সবাই  পছন্দ করি। যে ধরনের মেকাপই করুন না কেন, নিজেকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু, অনেকে মনে করে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে অনেক অনেক ভারী মেকাপ নিতে হয়। এই ধারনা একদম ভুল। খুব অল্প মেকাপেও নিজেকে আকর্ষণীয়  করে তোলা যায়।

(১) মেকাপের আগে স্কিনকে ক্লিঞ্জং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং করে নিন। মেকাপের জন্য একটি মসৃণ বেজ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য অবশ্যই প্রাইমার ব্যবহার করতে হবে। প্রাইমার মেকাপকে লং লাস্টিং করতেও সাহায্য করবে। আপনি চাইলে ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ প্রাইমার ব্যবহার করতে পারেন। এতে আলাদা করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। এজন্য, স্মাশবক্স ফটো ফিনিশ প্রাইমার, ই.এল.এফ হাইড্রেটিং প্রাইমার ভালো কাজে দিবে।

(২) পুরো মুখে ফাউন্ডেশন না ব্যবহার করে বেছে নিন একটি ফুল কভারেজ কনসিলার। এটি অবশ্যই আপনার স্কিনের সাথে পারফেক্ট ম্যাচ হতে হবে।কনসিলারটি শুধুমাত্র আপনার ফেসে যেখানে ডার্ক সার্কেল অথবা স্পট আছে ওইসব জায়গাতে লাগান এবং ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। কনসিলারটি ফুল কভারেজ হওয়ায় আপনার ফেসের সব দাগ ছোপ পুরোপুরিভাবে ঢেকে দিবে। যার ফলে, আপনার আর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার দরকার পড়বে না এবং স্কিনও দেখতে ন্যাচারাল এবং সতেজ লাগবে।

(৩) কনসিলারটি সেট করে নেয়ার জন্য একটি ফেস পাউডার নিয়ে একটি ব্রাশের সাহায্যে পুরো ফেসে লাগান। পাউডারটিতে হালকা কভারেজ থাকলে ভালো। যেহেতু আপনি ফেসের কিছু কিছু জায়গায় কনসিলারটি লাগিয়েছেন, সেহেতু শুধুমাত্র সেই সব জায়গায় পাউডার ব্যবহার করেন, তবে দেখতে একটু বাজে লাগতে পারে।তাই ফেসে সামঞ্জস্যতা আনার জন্য পুরো ফেসেই পাউডার ব্যবহার করে নিন।

(৪) যেহেতু আপনি পুরো ফেসে ভারী কোনো মেকাপ নিচ্ছেন না, সেহেতু ক্রিম কন্টুরিং এবং হাইলাইটিং এর দরকার নেই। ফেসে ব্রাশের সাহায্যে হালকা পাউডার  কন্টুরিং করে নিন, চিক বোনের নিচে, নাকে এবং কপালে। এতে আপনার মেকাপ দেখতে ভারী লাগবে না। চাইলে হালকা ব্লাশও লাগিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু এটা একদম আপনার নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।

(৫) চকমকা হাইলাইটিং পাউডার এর পরিবর্তে ব্যবহার করুন লিকুইড হাইলাইটার/ইল্যুমিনেটর। এটি আপনার ফেসে একটি ন্যাচারাল গ্লো দিবে। যেটি দেখতে অনেক বেশী সুন্দর লাগে।

(৬) আইব্রো আঁকতে আই ব্রো পেন্সিল /আইব্রো জেল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু আপনার সাজের সাথে মিল রেখে ব্যবহার করুন।খুব ডিপভাবে আইব্রো আঁকবেন না।এতে দেখতে খুবই বাজে লাগে। খুবই হালকা হাতে হালকা স্ট্রোকের মাধ্যমে আইব্রো আঁকুন। এছাড়া একটি ভালো অপশন হতে পারে কোনো পিগমেন্টেড আইব্রো সেটিং জেল। যেগুলো আমরা আইব্রো সেট করার জন্য ব্যবহার করে থাকি। এমন কিছু আইব্রো জেল আছে, যেগুলোতে কালার থাকে। এই ধরনের আইব্রো জেল দিয়ে আইব্রো ব্রাশ করে নিন। আইব্রোগুলো সেটও থাকবে এবং সুন্দর একটি ন্যাচারাল কালার ও আসবে।

(৭) চোখে নানা রকম আইশ্যাডো দিয়েই চোখ সাজাতে হবে এমন কোনো কথা নেই। চোখের পাতায় ব্যবহার করুন খুবই হালকা রঙ এর  শিমারি আইশ্যাডো। একটি হালকা ব্রাউন কালার চোখের ক্রিজে হালকাভাবে ব্লেন্ড করে দিয়ে পারেন। এতে একটি স্নিগ্ধ লুক আসবে। চাইলে আইলাইনার লাগিয়ে নিতে পারেন। এটি আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। এছাড়া চোখের পাপড়িতে কয় এক কোট মাশকারা ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

(৮) লিপস্টিকের ক্ষেত্রেও আপনার পছন্দমত লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়ার রাখবেন অতিরিক্ত চড়া রঙ না ব্যবহার করা ই ভালো।তাতে আপনার স্নিগ্ধতায় ভাটা পরতে পারে।

মেকাপের কাজ আপনার ফেসের খুতগুলো ঢেকে, আপনার মুখের সৌন্দর্য নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা। এজন্য, সবসময় অনেক বেশী মেকাপের প্রয়োজন হয় না।এভাবেই অল্প মেকাপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করে হয়ে উঠুন আকর্ষণীয়।

নিজেই তৈরি করুন গ্রীন টি ময়েশ্চারাইজার ফেস ক্রিম


সেনসিটিভ ত্বকের অধিকারিণী যারা আছেন তারা অধিকাংশ সময়েই ময়েশ্চারাইজার নির্বাচনে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগেন। অনেকেই ব্যবহার করে যে ময়েশ্চারাইজারে ভালো রিভিউ দেন, সেনসিটিভ ত্বকের সাথে তাও অনেক ক্ষেত্রে মানানসই হয় না। সেনসেটিভ ত্বকের জন্য খুব উপকারী এক উপাদান গ্রীন টি। আসুন এই গ্রীন টি দিয়ে কীভাবে সেনসেটিভ ত্বকের জন্য পারফেক্ট ময়েশ্চারাইজার ক্রিম তৈরি করা যায় তা দেখে নিই।

ক্রিমটি তৈরিতে যা যা লাগছে - 

১। এক টেবিল চামচ Beeswax beads,

২। দুই টেবিল চামচ পিওর কোকোনাট অয়েল

৩। তিন টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল

৪। অর্ধেক টেবিল চামচ ভিটামিন ই অয়েল

৫। এক-দুইটি অর্গানিক গ্রীন টি ব্যাগ

৬। পাঁচ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল

পদ্ধতি

একটি পাত্রে এসেনশিয়াল অয়েল বাদে সব অয়েল এবং Beeswax beads একসাথে নিয়ে নিন। তারপর অন্য একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। যখনি তাতে পানি ফুটতে শুরু করবে এর উপর অয়েলের পাত্রটি বসিয়ে দিন। তারপর একটি চামচের সাহায্যে নেড়ে Beeswax beads গলিয়ে অন্যান্য অয়েলের সাথে মিশাতে থাকুন। Beeswax beads গলে আসলে তাতে টি ব্যাগ থেকে গ্রীন টি ঢেলে দিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট গরম পাত্রের উপরই বসিয়ে রাখুন। তারপর একটি পাতলা সুতি কাপড়ে ছেঁকে নিন। এতে পাঁচ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করুন। এসেনশিয়াল অয়েলের ক্ষেত্রে ল্যাভেন্ডার, রোজমেরি অথবা ইউক্যালিপটাস এসেনশিয়াল অয়েল নিতে পারেন। যাদের একনির সমস্যা রয়েছে তারা টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। তারপর কোনো খালি ক্রিমের কৌটায় ভরে ফ্রিজে সংরক্ষন করুন।

গ্রিন টি ব্যবহার করার ফলে এই ক্রিমে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা আপনার ত্বককে রি- ভাইটালাইজ করতে সক্ষম। প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার এক থেকে দুই ঘন্টা আগে ত্বকে নাইট ময়েশ্চারাইজার হিসেবে লাগিয়ে নিন। সকালে ধুয়ে ফেলুন।

সতর্কতা

১। অয়েল আর Beeswax beads গলানোর সময় কখনই পাত্রটি সরাসরি চুলোয় দিবেন না।

২। এর কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।

বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিকোণ থেকে স্তন ক্যান্সার: কেন হয়?


স্তন ক্যান্সার পৃথিবীজুড়ে মেয়েদের সবচেয়ে বড় ঘাতকের নাম। প্রতি বছর সারা পৃথিবী জুড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই মিলিওন (১৫-২০ লক্ষ!) নতুন স্তন ক্যান্সারের রোগী পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৫-৭ লাখ মারা যায় স্তন ক্যান্সারের কারণে। তবে এই রোগটি নিয়ে  সচেতনতার পাশাপাশি অনেক অহেতুক ভীতিও ছড়ানো হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায়  “সূত্র: ইন্টারনেট” থেকে যে যা পারছে তুলে দেয়া হচ্ছে। যা আসলেই খুব দুঃখজনক। এবং অনেক জায়গায় দেখলাম নিজে নিজে স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে সুবিধার জন্য রেগুলার সেলফ এক্সামের উপর জোর দিচ্ছে।

অক্টোবর স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস। সাজগজের সব সময়ই প্রয়াস থাকে  তার বন্ধুদের সঠিক এবং বিশ্বস্ত তথ্যটি পৌঁছে দিতে। স্তন ক্যান্সার গবেষক, ক্যালগেরিতে পি,এইচ,ডি প্রাপ্ত  শান্তনু বণিক এই রোগ নিয়ে তার গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য এবং  স্তন ক্যান্সার নিয়ে ভ্রান্তিমূলক ধারণাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। চলুন বিশেষজ্ঞ  শান্তনু বণিকের দৃষ্টিকোণ থেকে আজ আমরা জানব, স্তন ক্যান্সার কেন হয়? এর রকমফের  এবং নির্ণয়ের উপায়  সম্পর্কে।
স্তন ক্যান্সার কেন হয়?  

ক্যান্সার কেন হয় এর অনেকগুলো জানা কারণ আছে, তেমনি অনেক অজানা কারণও আছে। কিছুদিন আগে কিছু গবেষক বলেছিলেন, ক্যান্সার কোন কোন ক্ষেত্রে জাস্ট ব্যাড লাক, যেকারোই হতে পারে। যেকোন ক্যান্সারের জন্য একটা কোষের মিউটেশনই দায়ী হতে পারে। সরল ভাষায়, ক্যান্সার হচ্ছে যখন শরীরের কিছু কোষ আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে বা পরাজিত করে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে এবং অস্বাভাবিকভাবে ছড়াতে/বাড়তে থাকে।

এই অস্বাভাবিক কোষ যখন মূল উৎপত্তি স্থল থেকে (টিস্যু বা অঙ্গ) দেহের নানা জায়গায় ছড়াতে শুরু করে তখন তাকে বলা হয় মেটাস্টাসিস (এটাই মূলত মৃত্যুর জন্য দায়ী)। আর কোথায় উৎপত্তি হয়েছে সেটাও আরেকটা বড় ফ্যাক্টর (যেমন সাধারণ ত্বকের ক্যান্সার হলে মারা যাবেন না হয়তো, কিন্তু সেটা যদি অন্য জায়গায়/ভাইটাল অর্গানে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি।)   ব্রেস্ট ক্যান্সারের পিছনের রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো দুই রকম, কিছু ফ্যাক্টর আমরা দূর করতে পারি, কিছু ফ্যাক্টর আমাদের বা কারোই কিছু করার নেই।

মেয়েদের স্তন ক্যান্সারের রিস্ক বেশি। এরপর আসবে অতিরিক্ত মোটা হওয়া (বিশেষত পেটের চর্বি), অস্বাস্থ্যকর/অনিয়মিত জীবন-যাপন, ধূমপান, মদ খাওয়া, নিয়মিত ফিজিক্যাল এক্টিভিটি বা শারীরিক পরিশ্রম না করা, রেডিয়েশন; অল্প বয়সে অতিরিক্ত এক্সরে করানো, সিটি স্ক্যান করানো, রেডিয়েশন বের হয় এমন কিছুর আশেপাশে থাকা, পৃথিবীর যেসব জায়গায় নানা কারণে রেডিয়েশন বেশি (প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট- নর্থ আমেরিকার কিছু জায়গায় যেমন রেডিয়েশন বেশি)  সেসব জায়গায় থাকা, অপুষ্টি ইত্যাদি।

অন্যান্য কারণের (পরিবর্তন যোগ্য বা পরিবর্তন সম্ভব নয় এমন)  মাঝে আছে,

অনেক বেশি বয়সে বাচ্চা নেয়া (৩০ এর পর প্রথম সন্তান ধারণ) বা একেবারেই না নেয়া, ব্রেস্ট ফিডিং না করানো, হরমোন থেরাপি, খুব অল্প বয়সে মাসিক/পিরিয়ড হওয়া (১১/১২ বছরের আগে) , অনেক দেরীতে মেনোপজ হওয়া (~৫৫) ,  এবং বংশগত কারণ।
নিকটাত্মীয়ের মধ্যে (মা-বাবা দুই দিকেই) কারো হয়ে থাকলে তাদের হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। কারো শরীরে BRCA1/BRCA2/p53  মিউটেটেড জীনের অস্তিত্ব থাকলে তাদেরকে অনেক বেশি রিস্কে আছে বলে ধরা হয়। আর বয়সের সাথে সাথে রিস্কও বাড়তে থাকে (খুব সম্ভব বেশিরভাগ ক্যান্সারের জন্যই সত্য)।
সাম্প্রতিক কালে শরীরে “ভিটামিন ডি”-এর স্বল্পতার সাথেও ব্রেস্ট ক্যান্সার এর লিংক পাবার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই সম্ভাবনাও কম না।
শরীরে মেদের পরিমাণের উপরও নির্ভর করে রিস্ক। উর্ধাঙ্গে বা পেটের মেদ থাকলে সেটা একটা রিস্ক ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় মেনোপজের পরে মহিলাদের জন্য। সাধারণত, মেনোপজের আগে শরীরের ফ্যাট ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কিছুটা প্রতিরক্ষামূলক কাজ করতে পারে। কিন্তু মেনোপজের পর ঘটনা উলটে যায়, শরীর আর এস্ট্রোজেন (মেয়েদের হরমোন) তেমন তৈরি করে না, শরীরের ফ্যাট সেটা সাপ্লাই দেয়া শুরু করে, যেটা ওই বয়সে কোনভাবে ক্যান্সারকে ট্রিগার করতে পারে।
জন্মবিরতিকরণ পিল অনেক বছর ধরে ব্যবহার করলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের রিস্ক বাড়ে। তবে বন্ধ করে দেয়ার পর আস্তে আস্তে এর এফেক্ট কমতে থাকে। লং টার্মের জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি/ হরমোন ইনজেকশন নিলে এই রিস্ক বাড়ে (অনেক রোগেরই রিস্ক বাড়ে, সেজন্য মেয়েদের শরীর ধ্বংসকারী পিলের চেয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ কনডম ব্যবহার উৎসাহিত করা জরুরি )।
আরেকটা মোটাদাগের ফ্যাক্টর হচ্ছে, এথনিসিটি/জাতিসত্ত্বা – যেমন আফ্রিকানদের (কালো) ব্রেস্ট ক্যান্সার কম হয়, ককেশিয়ান (সাদা) দের বেশি হতে পারে – বিবর্তন গত কারণ ছাড়াও পরিবেশগত কারণ রয়েছে। এলকোহলের ব্যবহার আরেকটা কারণ। এদিকে আফ্রিকানদের কম হলেও, তাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার খুব দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং মৃত্যুহার বেশি হয়। এশিয়ানদের এবং সাউথ এশিয়ানদের তুলনামূলক কম হয়।
স্তন ক্যান্সারের রকমফের ও স্টেজিং  দেশের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত কারো আত্মীয়-বন্ধু যখন বলে অমুকের ক্যান্সার ধরা পড়েছে, স্টেজ-III বা স্টেজ-IV, কিন্তু এই স্টেজিং কীভাবে করা হয়?

স্টেজিং করা হয় অনেকগুলো ফ্যাক্টর বিবেচনা করে, প্রাইমারি লোকেশন, বিনাইন না ম্যালিগন্যান্ট, লসিকা গ্রন্থি (লিম্ফ নোড, আমাদের শরীরের ইমিউনিটি/রোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থার অংশ) আক্রান্ত কি না, সাইজ, গ্রেড, মেটাস্টাসাইজ হয়েছে কি না ইত্যাদি। আর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর  চিকিৎসা করলে ভাল হবে কি না বা কতদিন বাঁচবে এটা নির্ভর করে চিকিৎসার কার্যকারিতা, সাইজ, গ্রেড, বয়স, বৃদ্ধির হার, এবং ব্যক্তির উপর। আপাতত ৫ বছরের “রিলেটিভ সারভাইভাল রেট” বিবেচনায় মোটা দাগে উন্নত বিশ্বে বিষয়টা এরকম – (মানে এরকম ১০০ জনের মধ্যে কতজন ৫ বছর বাঁচবেন (গড়ে), এটা ১০ বছর বা ১৫ বছর হিসাবে নেয়া যায়, তখন ক্যান্সার আবারো ফিরে আসার সুযোগ থাকে এবং রেটটা তখন কমে যায়)

স্টেজ ০:

ক্যান্সার না, বা ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার কোন লক্ষণ ধরা পড়েনি। ৫ বছর বাঁচার হার ১০০%

স্টেজ ১:

১-A – ২ সেমির চেয়ে ছোট টিউমার, ছড়িয়ে পড়ছে না। ১-B খুব ছোট টিউমার থাকতে পারে নাও পারে, কিন্তু খুব ছোট ছোট একাধিক ক্যান্সার কোষ পাওয়া গেছে।  লসিকা গ্রন্থিতে থাকতে পারে নাও পারে। ৫ বছর বাঁচার হার ১০০%

স্টেজ ২:

A এবং B ভাগ আছে। মোটা দাগে, টিউমার ৫ সেমি পর্যন্ত হতে পারে, ছোট ছোট একাধিক ক্যান্সার কোষ আছে (২মিমির নিচে), এবং/অথবা ৩টির মত লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ৫ বছর বাঁচার হার ৯৩%

স্টেজ ৩:

A , B এবং C ভাগ আছে। ভয়াবহতার শুরু। কোন রকম লক্ষণ থাকতেও পারে নাও পারে। লাল হয়ে বা ফুলে উঠতে পারে স্তন, স্তনে গরম অনুভূত হতে পারে, বগলের নিচে ব্যথা হতে পারে, চামড়ায় চিহ্ন দেখা যেতে পারে। ক্যান্সার বড় হয়েছে, ১০ টির বেশি গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়েছে, ৫ সেমির বড় টিউমার বা যেকোন আকার-আকৃতির ক্যান্সার থাকতে পারে, বুকের পেশী ও দেয়ালে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ৫ বছর বাঁচার হার ৭২%

স্টেজ ৪:

ক্যান্সার লসিকা গ্রন্থি ও রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে- মেটাস্টাসিস চামড়া, হাড়, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, বা রক্তে ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ বছর বাঁচার হার ২২%  (খুব ভাল চিকিৎসা হলে এবং চিকিৎসায় ফল পাওয়া গেলে)

আশার কথা এই যে দিন দিন স্তন ক্যান্সার যত দ্রুত সম্ভব ধরার  জন্য প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং বর্তমানে খুব দ্রুতই ধরা পড়ছে, একই সাথে চিকিৎসা ব্যবস্থাও দিন দিন উন্নত হচ্ছে। যেকারণে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকলেও মৃত্যুহার আস্তে আস্তে কমে আসছে।

 নির্ণয়ের উপায়?

স্তন ক্যান্সারকে একরকমের নীরব ঘাতকই বলা যায়। যতক্ষণে টের পাওয়া যায় ততক্ষণে অনেক ক্ষেত্রেই দেরি হয়ে গিয়েছে।  স্তন ক্যান্সার ধরার পড়ে সাধারণত তিন ভাবে।

(১) উন্নত বিশ্বে ৪৫ বা ৪৯ বছর বয়স থেকে প্রতি ১-২ বছর পর পর নিয়মিতভাবে ম্যামোগ্রাম করা হয়। একে বলা হয় স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম। সাধারণত ৬৯ বছর বয়স পর্যন্ত এটা করা হয়ে থাকে। এরপর সাধারণত ক্যান্সারের বৃদ্ধি খুব আস্তে হয় আর চিকিৎসাও কিছুটা ভিন্ন রকমের হয়। যাদের রিস্ক অনেক বেশি তাদেরকে ৪০ এর পর থেকেই অনেক সময় নিয়মিত ম্যামোগ্রাফি করতে বলা হয়। স্ত্রিনিং প্রোগ্রামের ম্যামোগ্রামগুলো অন্তত দুইজন রেডিওলজিস্ট স্বাধীনভাবে চেক করেন, একই সাথে কিছু কম্পিউটার সফটওয়ারও ব্যবহৃত হয় অটোমেটিক ভাবে সন্দেহজনক জায়গাগুলোতে রেডিওলজিস্টকে এবার চেক করতে বলার জন্য।

(২) কেউ কোন কারণে অসুস্থ বোধ করলে, তার অন্য কিছু স্ক্রিনিং করতে গিয়ে (এম,আর,আই; সিটি স্ক্যান; এক্সরে; আল্ট্রাসাউন্ড) বা ডাক্তারের কাছে ক্লিনিক্যাল এক্সামের জন্য গেলে তখন ধরা পড়ে।

(৩) সেলফ এক্সামের সময়। দুর্ভাগ্যবশত স্ক্রিনিং এর বাইরে ধরা পড়া টিউমারের প্রায় ৮০ ভাগই ধরা পড়ে এভাবে। সেলফ এক্সাম ও ক্লিনিক্যাল এক্সামের কার্যকারিতা নিয়ে বলছি এবার।

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত! এড়িয়ে চলুন এই খাবারগুলো



উচ্চ রক্তচাপ আজকাল একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। উচ্চ রক্তচাপ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং সত্যিই বিপজ্জনক হতে পারে। আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় হয়ে থাকে তাহলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন কারণ উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। অনেক ওষুধ আপনাকে নিয়মিত সেবন করতে হবে উচ্চ বিপি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। এছাড়া নির্ধারিত ঔষধ খাওয়ার থেকে, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য অনুসরণ করা প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ প্রধানত অনিয়মিত জীবনধারার কারণে হয়ে থাকে। অ্যালকোহল ব্যবহার, মানসিক চাপ, বিরতিহীন কাজ, অনুপযুক্ত খাদ্য আর ব্যায়ামের অভাব উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ। “অস্থির জীবন ও কাজের চাপের এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের বাধ্য করেছে। যাই হোক, যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ থেকে থাকে, তাহলে নিজেকে রক্ষা করতে আপনার জীবনধারা পরিবর্তন করার প্রয়োজন আছে। আপনার জীবনধারা এবং খাদ্যের মধ্যে কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনয়ন এই উচ্চ রক্তচাপ এড়ানোতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক উপায় আছে।উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। অনেক গবেষণা অনুযায়ী, ভিটামিন সি এর সঠিক ভোজনে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। যেমন কমলা, কিউই, ক্র্যানবেরি, পেয়ারা, আঙ্গুর এবং স্ট্রবেরি ফলের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই কমিয়ে থাকে। যাই হোক, কিছু খাবার আছে যা উচ্চ রক্তচাপ ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলা উচিত। এখানে একটি তালিকা দেওয়া হল-

লবন

লবন উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ আক্রান্ত মানুষের জন্য খুবই খারাপ। আমেরিকানদের খাদ্যতালিকাগত নির্দেশিকা অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-হাইপারটেনশন ব্যক্তিদের সোডিয়াম ভোজন সীমিত করা উচিত। আপনার খাদ্যে অতিরিক্ত লবন যোগ এড়িয়ে চলুন।

আচার

লবন ক্যানিং এবং লম্বা সময়ের জন্য সংরক্ষণের জন্য আচারে সংযোজন করা হয়। আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, তাহলে খাদ্য তালিকা থেকে আচার বাদ দিয়ে দিন।

ডেলি মাংস

প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে আর তাই আপনার রক্ত চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার খাদ্যে এই ধরণের প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।

টিনজাত খাবার

টিনজাত খাবার লবন দিয়ে সংরক্ষিত করা হয় এবং এতে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। টিনজাত খাবার, সূপ ঝোল এবং স্টক খুব খারাপ হতে পারে। জৈব খাদ্য যাতে কম সোডিয়াম আছে এমন খাবার বেছে নিন।

চিনি

অত্যধিক চিনি খাওয়া শুধু ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে তাই নয়, এটি আপনার রক্ত চাপ ও বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া, উচ্চ রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত ওজনের এবং মোটা মানুষের মধ্যে বেশি প্রচলিত। সুতরাং, চিনি-যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

মুরগীর চামড়া

মাংস নয় তবে মুরগীর চামড়ায় চর্বির মাত্রা বেশি থাকে যা রক্তচাপ প্রভাবিত করে। লাল মাংস এবং মাখন চর্বিতে পরিপূর্ণ যা রক্ত চাপ রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কফি

কফি বা ক্যাফেইনে যদি আসক্ত হন, তাহলে এই পানীয়কে বিদায় বলার সময় হয়েছে। কফি অস্থায়ীভাবে রক্তচাপ বাড়িয়ে তোলে।

অ্যালকোহল

গবেষকদের মতে, এক সঙ্গে তিন গ্লাস অ্যালকোহল পানে অস্থায়ীভাবে উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাছাড়া, অ্যালকোহল উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলো প্রভাবিত করে।

বরইয়ের ঝাল-মিষ্টি আচার


খিচুড়ি বা ভর্তা ভাতের সাথে  বরই-এর ঝাল-মিষ্টি আচার না হলে তৃপ্তি আসে না! হাতে সময় এবং উপকরণগুলো কাছাকাছি থাকলে তৈরি  করে ফেলতে পারেন মজাদার বরইয়ের  ঝাল-মিষ্টি আচার। দেখে নিন  বরইয়ের  ঝাল-মিষ্টি আচার তৈরির পুরো প্রণালী।

উপকরণ

শুকনো বরই ১ কেজি
চিনি বা গুড় ৪০০ গ্রাম
শুকনা মরিচ ৫-৬ টা
আস্ত জিরা ১ টেবিল চামচ
আস্ত মৌরি ২ চা চামচ
আস্ত ধনিয়া ১ টেবিল চামচ
কালো জিরা ১ টেবিল চামচ
লবণ- স্বাদমতো
সরিষার তেল ৪০০ মিলি
তেজপাতা ২ টি
রসুন কুচি ২ টেবিল চামচ

প্রণালী

( ১ ) প্রথমে শুকনো বরইগুলো বোঁটা ফেলে দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ৪-৫ ঘন্টা । তারপর বরইগুলো থেকে পানি ভালোভাবে ঝড়িয়ে রাখুন ।

( ২ ) একটি তাওয়ায় মরি টেলে নিয়ে গুঁড়া করে রাখুন । এরপর আস্ত জিরা, ধনিয়া, মৌরি ও কালো জিরা টেলে মিহি গুঁড়া করে রেখে দিন ।

( ৩ ) এবার চুলায় একটি পাত্রে তেল গরম হয়ে এলে এতে রসুন কুঁচি ও তেজপাতা দিয়ে দিন। ১ মিনিট পর এর সাথে বরইগুলো দিয়ে দিন । এখন এতে লবন ও শুকনা ভাজা মরিচ গুঁড়া দিন এবং ভালোভাবে নাড়ুন । ঘন ঘন নেড়ে দিন ।

( ৪ ) এখন এতে টেলে গুঁড়া করে রাখা সব মসলা দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে থাকুন । বরইগুলো নরম হয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে থকথকে হয়ে এলে সব শেষে চিনি বা গুড় দিয়ে দিন । গুড় দিলে ভালোভাবে ঝুরা করে দিতে হবে । চিনি বা গুড় বরইয়ের সাথে ভালোভাবে মিশে গেলে লবন আর মিষ্টি চেক করে দেখুন, লাগলে দিন । তারপর নামিয়ে ফেলুন ।

( ৫ ) আচার একটা চওড়াট্রেতে করে ২-৩ দিন রোদে দিয়ে ঠাণ্ডা হলে বয়ামে তুলে রাখুন। এই আচার বয়ামে রেখে সারা বছর খাওয়া যাবে

ঢোকলা


আজকের  রেসিপি আয়োজনে রাখা হল ভারতের ঐতিহ্যবাহী ঢোকলা। সহজলভ্য কিছু মসলার সংমিশ্রণে  নিজেই তৈরি করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেতে পারেন ভিনদেশি এই  খাবারটি। চলুন তাহলে ঢোকলা তৈরির পুরো প্রণালীটি দেখে নিই।

উপকরণ

১ কাপ বেসন
১ টেবিল চামচ সুজি
দেড় চা চামচ লেবুর রস
১ চা চামচ কাঁচা মরিচ-আদা বাটা
৩/৪ কাপ পানি
১ চা চামচ লবন
টেস্টিং সল্ট (প্রয়োজন মতো)
১/৪ কাপ দই
১ চা চামচ তেল
টেম্পারিং এর জন্য

২ টেবিল চামচ তেল
আধা চা চামচ সরিষা দানা
আধা চা চামচ জিরা
১ চা চামচ তিল
১ চা চামচ চিনি
৪ টি কাঁচা মরিচ ফালি
২ টেবিল চামচ ধনে পাতা কুঁচি
২ টেবিল চামচ নারকেল কড়ানো (ইচ্ছা)
১/৩ কাপ পানি
 প্রণালী

- ঢোকলার সকল উপকরণ একত্রে মিশিয়ে কেকের ব্যটারের মতো তৈরি করুন। লবন চেখে দেখুন। এরপরে এই ব্যটার একটি বেকিং মোল্ডে ঢেলে নিন।

- এবার একটি বড় পাত্রে বেশ খানিকটা পানি দিয়ে জ্বাল করতে থাকুন। এটি স্টিমার হিসেবে কাজ করবে। এরপর পানির পাত্রের ভেতরে একটি স্ট্যান্ড রেখে দিয়ে মুখটি ঢেকে দিন।

- স্ট্যান্ডের উপরে বেকিং মোল্ড বসিয়ে ভালো করে পুরোটা ঢেকে দিন ও রান্না করতে থাকুন। বিষয়টি পুডিং যেভাবে ওভেন ছাড়া বানান ঠিক তেমনটিই হবে।

- ঢোকলা তৈরি হতে হতে টেম্পারিংয়ের জন্য একটি ছোটো প্যানে তেল গরম করে এতে সরিষা দানা দিন। ফুটে উঠলে এতে জিরা ও তিল দিয়ে নেড়ে নিন। এরপর কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নিন।

- ১/৩ কাপ পানিতে চিনি গুলিয়ে দিয়ে দিন প্যানে। এবং পানি ফুটে উঠলে রাও কিছুক্ষণ চুলায় রেখে তৈরি করে নিন।

- ১০-১২ মিনিট পর স্টিমারের ভেতরে বেকিং মোল্ডে একটি কাঠি ঢুকিয়ে দেখুন ঢোকলা তৈরি হয়েছে কিনা। যদি কাঠি পরিষ্কার হয়ে বেড়িয়ে আসে তাহলে বুঝবেন তৈরি হয়ে গিয়েছে।

- ঢোকলা বের করে মোল্ডে রেখেই নিজের পছন্দমতো আকারে কেটে নিন এবং উপরে টেম্পারিংয়ের মিশ্রণটি ভালো করে ছড়িয়ে দিন। এভাবে খানিকক্ষণ রেখে দিন। এরপর উপরে ধনেপাতা ও নারকেল করানো দিয়ে সসের সাথে পরিবেশন করুন মজাদার গুজরাটি খাবার ‘ঢোকলা’।

মজাদার নারকেলের চাটনির সাথে ইডলি


আজকের  রেসিপি আয়োজনে রাখা হল  মজাদার নারকেলের চাটনির সাথে ইডলি। সহজলভ্য কিছু মসলার সংমিশ্রণে  নিজেই তৈরি করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেতে পারেন ভিনদেশি এই  খাবারটি। চলুন তাহলে ঢোকলা তৈরির পুরো প্রণালীটি দেখে নিই।

ইডলি তৈরির  উপকরণ 

চাল-১ কাপ 
সাদা মাস কলাইএর ডাল হাফ কাপ 
লবন ১ চাচামচ 
বেকিং সোডা ১ চিমটি 
তেল (প্যন গ্রীজ করার জন্যে)

নারকেল চাটনি তৈরির উপকরণ

কোড়ানো নারকেল ১ কাপ
ধনেপাতা কুচি ইচ্ছামত কাঁচা মরিচ কুচি ৪/৫টি
রসুন ৪ কোয়া
ভাজা চিনাবাদাম ১ টেবিল চামচ
লবন আধা চা-চামচ
চিনি আধা চা-চামচ
শুকনা মরিচ ২ টি
কালো সরিষা গোটা – হাফ চা চামচ
তেল অল্প
যেভাবে করবেন:

- কোকোনাট চাটনি তৈরির উপকরণের প্রথম ৬টি উপাদান পর্যন্ত সব কিছু একসাথে ব্লেন্ডার এ নিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।

- তারপর শুকনা মরিচ, সরিষা আর তেল দিয়ে বাগার দিন।

প্রণালী 

– ডাল ধুয়ে সারারাত বা ৮ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ডাল মিহি করে পেস্ট করে নিন।

- চাল ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে ব্লেন্ডারে আধা গুড়ো করে নিন।  

- এখন চালের গুড়া আর ডালের পেস্ট মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করুন।মিশ্রণে লবন আর সোডা মিশিয়ে ৮-৯ ঘন্টা  অথবা এক রাত গরম জায়গায় রাখুন।

- ইডলি হোল্ডার অথবা ভাপা পিঠা বানানোর মোল্ড গ্রিজ করে ৩/৪ ভাগ ভরে মিশ্রণ ঢালুন। ভাপে ১০ মিনিট বা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। ছুরি দিয়ে ইডলিগুলো তুলে নিন। চাটনি দিয়ে পরিবেশন করুন।

ত্বকের আসল রং ফিরিয়ে আনুন একটি ন্যাচারাল লোশনেই


সান বার্ন, স্কিনের ঠিকমতো যত্ন না নেয়া, স্কিন পরিষ্কার না করা ইত্যাদি কারণে আমাদের স্কিনের ন্যাচারাল কালার আমরা হারিয়ে ফেলি। স্কিনের ব্রাইটনেস কমে যায়, স্কিন মলিন লাগে দেখতে। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকের গায়ের রংয়ের সাথে মুখের রং মিলছে না। অর্থাৎ, মুখ কালো লাগছে গায়ের রংয়ের থেকে। এই সব সমস্যা দূর করে স্কিনের ন্যাচারাল ব্রাইটনেস ফিরিয়ে আনবে একটি ন্যাচারাল লোশন। লোশনটি ব্যবহারের আগে মাথায় রাখবেন যেসব ব্যাপারগুলো-

এই লোশনটি কোনো রং ফর্সাকারী লোশন না।
এটি শুধুমাত্র আপনার স্কিনের ন্যাচারাল কালারকে ফিরিয়ে আনবে।
এটি আপনি খুব সহজেই মাত্র ২ টি উপকরণ দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারবেন। এই উপকরণগুলো সম্পূর্ণ ন্যাচারাল।
চলুন জেনে নিই, কী কী উপাদানের সাহায্যে এবং কীভাবে এই লোশনটি বানিয়ে নিবেন।

যা যা লাগছে-

একটি লেবু
১ চা চামচ চিনি
একটি পরিষ্কার ছোট কাঁচের বোতল
যেভাবে তৈরি করবেন:

প্রথমে লেবু কেটে নিন। লেবুর রস চিপে বের করে নিন। লেবুর রসটুকু ছেঁকে নিয়ে একটি পরিষ্কার পেয়ালায় রাখুন। ঐ লেবুর রস এর মধ্যে ১ চা চামচ চিনি দিয়ে নিন। চামচ দিয়ে মিশ্রণটি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

এবার, একটি ছোট পাতিলে মিশ্রনটি ঢেলে নিন। মিশ্রনটি চুলায়  খুবই অল্প আঁচে জ্বাল দিন। যখন ফুটে উঠবে, তখন থেকে ১০ সেকেন্ড পরে চুলা বন্ধ করে দিন। লোশনটি লিকুইড টাইপ হবে। মিশ্রণটি নিজে থেকে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে, একটি পরিষ্কার কাঁচের বোতলে ঢেলে নিন। এই তো তৈরী হয়ে গেল আপনার স্কিন ব্রাইটেনিং লোশন। এটিকে ৭ দিন ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারবেন।

কীভাবে ব্যবহার করবেন :

প্রথমে মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে  পরিষ্কার করে নিন। এরপর,  একটি ছোট কটনবলে লোশনটি নিয়ে পুরো ফেসে ব্যবহার করুন। চোখের এড়িয়া বাদ রাখবেন। এর লোশনটি ফেস প্যাকের মতো লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট।  ২০ মিনিট পর নরমাল পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং মুছে নিন। এরপর আপনার পছন্দমত ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এভাবে প্রতিদিন একবার করে ব্যবহার করুন।  আশা করছি,  ২-৩ দিনেই তফাৎ বুঝতে পারবেন।

আমার অভিজ্ঞতা :

আমি অনেক বছর ধরেই এই লোশনটি ব্যবহার করে আসছি। আমার জন্য এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে এসেছে এবং আমি আমার ত্বকের ব্রাইটনেস ফিরে পেয়েছি। যখনই আমার মুখ কালচে লাগে, তখনই আমি এই লোশনটি বানিয়ে ফেলি এবং ব্যবহার করি।

কিছু সাবধানতা :

এই লোশনটিতে যেহেতু লেবু ব্যবহার করা হয়েছে, সেহেতু ব্যবহারের পর মুখ একটু চুলকাতে পারে। এটি আমার ক্ষেত্রেও হয়। এটা একটু পরেই কমে যায়। কিন্তু যাদের  অ্যালার্জি আছে / ব্যবহারের পর জ্বালাপোড়া শুরু হলে সাথে সাথেই মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং এটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

এছাড়াও কিছু টিপস :

প্রতিদিন ক্লিঞ্জিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং রুটিন মেনে চলুন।
সপ্তাহে ২-৩ দিন স্ক্রাবিং করবেন।
বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন।
আশা করছি, আমার এই ন্যাচারাল স্কিন ব্রাইটেনিং লোশনের রেসিপি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে।